জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌর এলাকায় পুলিশ সেজে ফোন করে প্রতারণার শিকার হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুর রহমান কবিরাজ। গত মঙ্গলবার রাতে তাঁর মুঠোফোনে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে কল আসে। ওপাশ থেকে নিজেকে আক্কেলপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফিরোজ হোসেন বলে পরিচয় দেওয়া হয়। কলার দাবি করে, শহিদুরের ছেলে রাসেল কবিরাজসহ তিনজনকে পেট্রলপাম্প এলাকা থেকে মাদকসহ আটক করা হয়েছে। ছেলেকে ছাড়াতে ৩৫ হাজার টাকা দিতে হবে, অন্যথায় থানায় নেওয়া হবে। ফোনের পটভূমিতে পুলিশের গাড়ির সাইরেনের শব্দও শোনা যায় বলে জানান শহিদুর। এরপর এক ব্যক্তিকে তাঁর ছেলের পরিচয় দিয়ে ফোনে কথা বলানো হয়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে ওই ব্যক্তি দ্রুত ছাড়িয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানায়। পুরো বিষয়টি বিশ্বাস করে ফেলেন শহিদুর। তাঁর ছোট ভাই আবদুস সালাম কবিরাজও প্রতারকের সঙ্গে কথা বলেন। দর-কষাকষির পর ৭ হাজার টাকায় রাজি হয় প্রতারক চক্র। পরে শহিদুর একটি বিকাশ এজেন্টের দোকান থেকে নির্দিষ্ট নম্বরে ওই টাকা পাঠিয়ে দেন। টাকা পাঠানোর পরপরই নম্বরটি বন্ধ হয়ে যায়। তখন ছেলেকে ফোন করে জানতে পারেন, তিনি নিরাপদে বাড়ির কাছেই আছেন। এতেই প্রতারণার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। ট্রু-কলার অ্যাপে নম্বরটি সার্চ দিলে সেখানে 'পুলিশ পরিচয়ে প্রতারক' লেখা দেখা যায়। ভুক্তভোগী জানান, এশার নামাজের পরপরই ঘটনাটি ঘটে। তিনি ও তাঁর ছোট ভাই আগে কখনো এমন প্রতারণার মুখোমুখি হননি, তাই বুঝতে পারেননি। যে নম্বর থেকে কল এসেছে ও যে বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠানো হয়েছে, সেগুলো তাঁদের কাছে সংরক্ষিত আছে। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরিকল্পনা করছেন তারা। আক্কেলপুর থানার এসআই গণেশ চন্দ্র বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। কেউ ফোন করে টাকা চাইলে যাচাই না করে বিকাশে টাকা পাঠানো উচিত নয়। প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে হবে। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়রা বলছেন, এ ধরনের প্রতারণা থেকে সাবধান থাকতে হবে। পুলিশের পক্ষ থেকে টাকা দাবি করলে সরাসরি থানায় যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।