বাংলাদেশ একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং এবং ইউরোপভিত্তিক এয়ারবাস—উভয় প্রতিষ্ঠানের উড়োজাহাজ সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমাদের বোয়িংও দরকার, এয়ারবাসও দরকার। আমরা দুটোই ক্রয় করব।” পূর্বে ফ্রান্সের কাছে এয়ারবাস কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সরকার; পরবর্তীকালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং সংগ্রহের সিদ্ধান্ত আসে। এটি কোনো বাইরের চাপের ফল, নাকি সম্পূর্ণ দেশীয় স্বার্থে নেওয়া—এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতকে আরও উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা থেকেই এই দ্বিমুখী ক্রয় নীতি নির্ধারিত হয়েছে।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, “প্রধানমন্ত্রী পূর্ববর্তী সরকারের কাছ থেকে যে ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছেন, সেটিকে শক্তিশালী করতে একদিকে কৃচ্ছ্রসাধন যেমন জরুরি, তেমনি প্রয়োজনীয় সবকিছু ক্রয়ও করতে হবে।” বাণিজ্য বা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো একক দেশকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে কি না, তা জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ দ্ব্যর্থহীনভাবে বলেন, “অবশ্যই না। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অ্যাবসলিউটলি বাংলাদেশের স্বার্থকে সবচেয়ে আগে দেখা হয়।”

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের মে মাসে লন্ডনে একটি ‘এভিয়েশন পার্টনারশিপ’ চুক্তির আওতায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে যুক্ত করার লক্ষ্যে এয়ারবাস থেকে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী উড়োজাহাজ কেনার যৌথ ঘোষণাপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ওই চুক্তিতে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় অংশীদারদের থেকে ‘ইউকে এক্সপোর্ট ফাইন্যান্স’ প্রকল্পের অধীনে সহজ শর্তে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। এর দুই বছর পর, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে, পাল্টা শুল্ক সংক্রান্ত আলোচনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

অন্যদিকে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর সম্প্রসারণে এয়ারবাসের বিমান সংগ্রহের আগ্রহ প্রকাশ করেছে বর্তমান বিএনপি সরকার। দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ করে একটি টেকসই মিশ্র বহর (মিক্সড ফ্লিট) গঠনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানমের সঙ্গে ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, স্পেন, জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকেরা এতে অংশ নেন। আজ বৃহস্পতিবার ওই চার কূটনীতিক প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন এবং সেখানেও এয়ারবাস ক্রয়ের বিষয়টি আলোচনায় স্থান পেয়েছে।