কর্মক্ষেত্রে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তিরা (হাই পারফর্মার) প্রতিষ্ঠানের জন্য অমূল্য সম্পদ হলেও, তাদের ব্যবস্থাপনা সঠিক না হলে তা দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক ফলাফল ডেকে আনতে পারে। সম্প্রতি একটি বিশ্লেষণে এমন তিনটি বড় ফাঁদ বা ভুলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা ব্যবস্থাপকরা প্রায়শই করে থাকেন এবং পরবর্তীকালে অনুশোচনা করেন।
বিশ্লেষণে উঠে আসা প্রথম বড় ভুলটি হলো, উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন কর্মীকে অতিরিক্ত স্বাধীনতা দেওয়া। এসব কর্মী যেহেতু নিজের কাজে অত্যন্ত দক্ষ, তাই ব্যবস্থাপকরা প্রায়ই তাদের ওপর থেকে নজরদারি পুরোপুরি সরিয়ে নেন। ধারণা করা হয়, তারা নিজেরাই সবকিছু সামলে নিতে পারবেন। কিন্তু এই অনুমান বিপজ্জনক। সঠিক দিকনির্দেশনা, প্রতিক্রিয়া ও কৌশলগত সহায়তার অভাবে তাদের দক্ষতা ভুল পথে ব্যয় হতে পারে অথবা তারা কোম্পানির বৃহত্তর লক্ষ্যের সঙ্গে সংযোগ হারিয়ে ফেলতে পারেন।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় ভুলটি ঠিক এর বিপরীত মেরুতে অবস্থান করে। সেটি হলো উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন কর্মীকে অতিরিক্ত কাজের চাপে ফেলে দেওয়া কিংবা তাদের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়া। যেহেতু তারা কঠিন কাজ দ্রুত সমাধান করতে পারে, তাই ব্যবস্থাপকরা সবচেয়ে জটিল ও চাপের কাজগুলো তাদের দিকে ঠেলে দেন। এর পরিণতি হিসেবে এই মূল্যবান কর্মীরা মানসিক অবসাদ বা বার্নআউটের শিকার হন। তাদের ক্রমাগত ব্যবহার শেষ পর্যন্ত পদত্যাগের ঝুঁকি তৈরি করে, যা প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় ধরণের মেধা-ক্ষতি বয়ে আনে।
সর্বশেষ ও তৃতীয় গুরুতর ভুলটি হলো উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন কর্মীদের পেশাগত উন্নয়ন ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনায় অবহেলা করা। ব্যবস্থাপকরা প্রায়ই মনে করেন, এই কর্মীরা যেহেতু ইতিমধ্যেই সফল, তাই তাদের শেখার বা বেড়ে ওঠার আর কিছু নেই। এ ধরনের মনোভাব অত্যন্ত ক্ষতিকর। উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তিরা সবসময় নতুন চ্যালেঞ্জ ও শিক্ষার সুযোগ খোঁজেন। ক্যারিয়ারের অগ্রগতির পথ পরিষ্কার না দেখতে পেলে তারা দ্রুত আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন এবং বিকল্প সুযোগের সন্ধানে প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করতে পারেন। তাদের প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করার বিষয়টি প্রায়শই উপেক্ষিত হয়।
পরিশেষে বলা যায়, উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন কর্মীদের ধরে রাখতে ও তাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ফলাফল আদায় করতে ব্যবস্থাপকদের এই তিনটি ফাঁদ এড়িয়ে চলতে হবে। ভারসাম্যপূর্ণ স্বায়ত্তশাসন, কাজের যৌক্তিক বণ্টন এবং সুস্পষ্ট ক্যারিয়ার পথনির্দেশনা নিশ্চিত করাই হলো সফল ব্যবস্থাপনার মূলমন্ত্র।


