বান্দরবানের থানচি উপজেলায় টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে নাফাখুম জলপ্রপাত এলাকায় ভ্রমণে গিয়ে আটকা পড়েছেন ৬৯ জন পর্যটক। তাদের সাথে ছিলেন আরও দশজন ট্যুরিস্ট গাইড। বর্তমানে সবাই উপজেলার রেমাক্রি ইউনিয়নের একটি রিসোর্টে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানা গেছে। তারা সকলেই শারীরিকভাবে সুস্থ রয়েছেন, তবে জেলা সদরে ফিরে আসা এখনো সম্ভব হয়নি।

থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল আল ফয়সাল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পর্যটক ও গাইডরা বর্তমানে নিরাপদ আশ্রয়ে আছেন। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই তাদের লোকালয়ে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হবে। ইতিমধ্যে পর্যটকদের সহায়তার জন্য লাইফজ্যাকেটসহ একটি উদ্ধারকারী দল রেমাক্রির দিকে পাঠানো হয়েছে। গাইড ও পর্যটকদের কঠোরভাবে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে যাতে পানি ও বৃষ্টি না কমা পর্যন্ত কোনো অবস্থাতেই পাহাড়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল না করা হয়।

বান্দরবান আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা অতি ভারী বৃষ্টি হিসেবে চিহ্নিত। আবহাওয়াবিদ সনাতন কুমার মণ্ডল জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত এই পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে এবং আগামী বুধবার পর্যন্ত অতি ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। তার মতে, বৃষ্টিপাত আগামী ১১ জুলাই পর্যন্ত চলতে পারে। এত বৃষ্টিতে বান্দরবানের পাহাড়ি ঝিরি, ঝরনা ও নদীগুলোর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে, যার ফলে পাহাড়ি ঢলের সৃষ্টি হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র গত সোমবার রাত থেকেই আগামী শুক্রবার পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময় পর্যটকদের যেকোনো ভ্রমণেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

নাফাখুম জলপ্রপাত বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনস্থল। বান্দরবান সদর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১১৮ কিলোমিটার। সেখানে পৌঁছাতে প্রথমে নদীপথ এবং পরে কয়েক ঘণ্টা দুর্গম পাহাড়ি পথ হেঁটে পাড়ি দিতে হয়। বর্ষাকালে এই পথ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে চলার পথ পিচ্ছিল হয়ে যায়। প্রশাসন জানিয়েছে, আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাদের অবস্থান স্থির রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।