প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের অধীন উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের রোটা দ্বীপ সোমবার শক্তিশালী একটি ঘূর্ণিঝড়ের মুখোমুখি হয়। ক্যাটাগরি ৫ মাত্রার সুপার টাইফুন ‘বাভি’ দ্বীপটির ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়ার সময় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা (এনডব্লিউএস) আগেই সতর্কবার্তা জারি করে জানিয়েছিল, ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৮০ মাইল (প্রায় ২৯০ কিলোমিটার) বেগে বাতাস বইতে পারে। এই পূর্বাভাস বাস্তবে রূপ নেয় বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। এনডব্লিউএস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ দ্বীপবাসীদের নিরাপদ ভবনের ভেতরে বা নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিল।

রোটা দ্বীপ মিউনিসিপ্যাল অপারেশনস সেন্টারের জনসংযোগ কর্মকর্তা লু রোজারিও জানিয়েছেন, তারা এখনো টিকে থাকলেও পরিস্থিতি ভয়াবহ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অত্যন্ত তীব্র বাতাস বইছে এবং বহু স্থান প্লাবিত হয়েছে। কেউ কেউ বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবরও দিচ্ছেন। এছাড়া একটি মোবাইল ফোনের টাওয়ার ভেঙে পড়ায় দ্বীপের কিছু এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে, যা উদ্ধার ও যোগাযোগে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।

এনডব্লিউএসের আবহাওয়াবিদ ল্যান্ডন আইডলেট ফেসবুক লাইভে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, সুপার টাইফুন বাভি ধীরে ধীরে ওই এলাকা ছেড়ে যাচ্ছে এবং আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আবহাওয়ার উন্নতি প্রত্যাশিত। আইডলেট উল্লেখ করেন, গত এপ্রিলে সুপার টাইফুন সিনলাকুর মতো এটি দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান করছে না, যা স্বস্তির বিষয়। তিনি জানান, টিনিয়ান দ্বীপ, গুয়ামের উত্তরাঞ্চল এবং সাইপান দ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তেও ক্যাটাগরি-১ মাত্রার ঘূর্ণিঝড়ের মতো বাতাস বয়ে গেছে।

গুয়ামের প্রশাসন সতর্ক করে জানিয়েছে, দ্বীপটিতে আগামী কয়েক দিনে ২০ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে, যা আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করতে পারে। উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জ এবং কাছাকাছি অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের অপর ভূখণ্ড গুয়ামে মোট প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার মানুষ বসবাস করেন।

এই দুর্যোগে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের পরবর্তী প্রভাব মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।