ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মগটুলা ইউনিয়নের নাওরী এলাকায় শনিবার ভোরে একটি অপ্রত্যাশিত ও উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা ঘটে। ত্রিশাল-নান্দাইল সড়কের ওপর কলাগাছ কেটে ফেলে এবং হাতে ধারালো ছুরি নিয়ে এক যুবক দীর্ঘ সময় ধরে যানবাহনের চলাচল ব্যাহত করেন। এতে ওই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকে এবং দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল প্রায় ছয়টার দিকে রমজান আলী (৩০) নামের ওই যুবক হঠাৎ সড়কের মাঝখানে অবস্থান নেন। তিনি মগটুলা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান সদস্য কলিম উদ্দিনের পুত্র। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, যুবকটি বড় একটি ছুরি হাতে নিয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করতে থাকেন। তাঁর আচরণে আতঙ্কিত হয়ে সড়কের উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয় এবং যাত্রীরা বিপাকে পড়েন।

সকাল সাড়ে নয়টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে। যুবককে সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়। পরে তাঁকে আটক করে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রবিউল আজম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রমজান আলী মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন। পরিবার দীর্ঘদিন ধরে তাঁর চিকিৎসা করাচ্ছে। এর আগে পাবনা মানসিক হাসপাতালেও তাঁকে কিছুদিন রাখা হয়েছিল। আজ সকালে হঠাৎ করেই তিনি ছুরি হাতে নিয়ে সড়কে অবস্থান নিয়ে মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেন। পুলিশ পৌঁছে তাঁকে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয় এবং পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ঘটনার সময় কিশোরগঞ্জগামী ময়মনসিংহ সদরের বয়রা ছালাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিলকিস আক্তার সেখানে উপস্থিত ছিলেন। মেয়েকে নিয়ে ভ্রমণের পথে তিনি এই বিশৃঙ্খলার মুখোমুখি হন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। তাঁর মতে, মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিটি চিৎকার করে বলছিল যে নতুন ধর্মমন্ত্রী তাঁর পছন্দ হয়নি। এই কারণেই তিনি সড়কের দুই পাশে কলাগাছ কেটে ফেলে রাস্তা অবরোধ করেন। পাঞ্জাবি পরিহিত লোক দেখলেই তিনি তাড়া করছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শী ওই শিক্ষক উল্লেখ করেন।

বিলকিস আক্তার মুঠোফোনে আরও জানান, তিনি নিজেই ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান। একপর্যায়ে এলাকাবাসী ও পরিবারের লোকজন যুবককে সড়ক থেকে সরিয়ে নিলে যাত্রীরা নিরাপদে গন্তব্যে যেতে সক্ষম হন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিপদের মুহূর্তেও ওই ব্যক্তির রাজনৈতিক বক্তব্য এবং চারপাশের মানুষের দৌড়াদৌড়ি এক ধরনের অভিজ্ঞতা হিসেবে মনে থাকবে।

মগটুলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শিহাব উদ্দিন আকন্দ বলেন, ছেলেটি প্রায় দেড় বছর ধরে মানসিক অসুস্থতায় ভুগছে। পরিবার তাঁকে নিয়মিত চিকিৎসার আওতায় রেখেছে এবং প্রয়োজনীয় যত্ন নিচ্ছে। আজ সকালে হঠাৎ করে ছুরি নিয়ে রাস্তায় মানুষের চলাচলে বাধা দেওয়া শুরু করলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বর্তমানে তাঁকে পুনরায় চিকিৎসার জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। অন্যদিকে, যুবকের বাবা ও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য কলিম উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়।