গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ি এলাকায় অবস্থিত কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড পোশাক কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে অসুস্থতার ঘটনা ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে। বুধবার সকাল থেকে আরও ৭০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর আগের দিন মঙ্গলবার একই কারখানার ৭৭ জন শ্রমিক একই ধরনের শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। ফলে গত দুই দিনে মোট ১৪৭ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।
অসুস্থ শ্রমিকদের প্রায় সবাই হঠাৎ করেই বুকে ব্যথা, মাথা ঘোরা, পেটে ব্যথা ও বমি বমি ভাব অনুভব করছিলেন। অনেকেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তাদের মাওনা চৌরাস্তার আল হেরা হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। কয়েকজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। আল হেরা হাসপাতালের ব্যবস্থাপক মো. মুসা জানান, বুধবার সকাল থেকে বেলা পৌনে একটা পর্যন্ত ৭০ জন শ্রমিক চিকিৎসা নিতে এসেছেন, তারা ক্রমেই সুস্থ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। মঙ্গলবারও একই হাসপাতালে ৭৭ জন শ্রমিক চিকিৎসা নিয়েছিলেন।
কারখানার সুইং অপারেটর মো. হাবিবের ভাষ্য, বুধবার সকালেও ৩০ থেকে ৪০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়েছিলেন এবং তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। আরেক শ্রমিক মো. শাহজাহান বলেন, হঠাৎ বুকব্যথা ও বমি শুরু হলে শ্রমিকেরা খুব দুর্বল হয়ে পড়ছেন, তবে হাসপাতালে স্যালাইন ও সাধারণ চিকিৎসায় তারা সুস্থও হচ্ছেন। এই অসুস্থতার প্রকৃত কারণ কেউই জানেন না।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুন ওই কারখানায় রাতের পালায় কর্মরত অবস্থায় লিজা আক্তার (৩৬) নামে এক নারী শ্রমিক অসুস্থ হয়ে মারা যান। ওই ঘটনার পরদিন শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান এবং বিভিন্ন কারখানায় ভাঙচুর চালান। এর জেরে কারখানা কর্তৃপক্ষ কয়েক দিন ছুটি ঘোষণা করেছিল।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম আল হেরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শ্রমিকদের দেখতে যান। তিনি মনে করছেন, এটি মাস হিস্টিরিয়া হতে পারে। তার মতে, একের পর এক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, আবার সাধারণ চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে যাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে শ্রমিকদের কাউন্সেলিং এবং নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রের স্থান পরিবর্তন করে দেখা যেতে পারে। তিনি জানান, জেলা সিভিল সার্জনের পরামর্শে শিগগিরই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
কারখানার কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার অসুস্থতার কারণ সম্পর্কে কিছু জানাতে পারেননি। তবে তিনি উল্লেখ করেন, অনেক শ্রমিক মনে করছেন কারখানায় শয়তানের আসর পড়ে থাকতে পারে। শ্রমিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ইমাম ডেকে এনে মিলাদ পড়ানো হয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অসুস্থ শ্রমিকদের হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করছে এবং বুধবার কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুর আলম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অসুস্থতার প্রকৃত কারণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তদন্ত করে দেখবেন।




