ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছে একটি ব্যাখ্যা চেয়েছে। বিষয়টি নিয়মিত দায়িত্বের অংশ হলেও সেটিকে গবেষণা বলে চিহ্নিত করে অতিরিক্ত সম্মানী গ্রহণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত সোমবার মন্ত্রণালয়ের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

ওই চিঠিতে প্রথম আলোয় ৪ জুলাই প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করা হয়। সেখানে বলা হয়, টেলিযোগাযোগসংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নে সরকারকে পরামর্শ ও প্রস্তাব দেওয়া বিটিআরসির নিয়মিত দায়িত্বের অংশ। কিন্তু এই কাজকেই ‘গবেষণা’ হিসেবে দেখিয়ে কমিশনার ও কর্মকর্তারা আলাদাভাবে সম্মানী নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তা-ই নয়, নীতিমালা বাস্তবায়নে গাইডলাইন প্রণয়নের কাজে যুক্ত বহিরাগত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদানের ক্ষেত্রেও যাচাই-বাছাই ছাড়াই অর্থছাড়ের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে ৪ জুলাই প্রথম আলো অনলাইনে ‘নিয়মিত কাজ হয়ে যাচ্ছে “গবেষণা”, তা দেখিয়ে লাখ টাকা সম্মানী নিচ্ছেন বিটিআরসির কর্মকর্তারা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরদিন একই প্রতিবেদন ‘নিয়মিত কাজেও নেন সম্মানী’ শিরোনামে ছাপা পত্রিকায়ও প্রকাশিত হয়। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ‘টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও লাইসেন্সিং পলিসি’ তৈরির কাজটিকে গবেষণা হিসেবে দেখিয়ে এতে যুক্ত কর্মকর্তাদের জন্য ১৬ লাখ ২৮ হাজার টাকা সম্মানী নির্ধারণ করা হয়। বিটিআরসির সর্বশেষ কমিশন সভায় এই অর্থছাড়ও সম্পন্ন হয়েছে।

অন্যদিকে, ‘পলিসি বাস্তবায়নে গাইডলাইন’ প্রণয়নের কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের সম্মানী বাবদ ১২ লাখ ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে এই অর্থছাড়ের জন্য যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে তিন কার্যদিবসের মধ্যে এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।