আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দিয়েছেন বরিশালের সাবেক দুই পুলিশ কর্মকর্তা। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে ক্রসফায়ারের ঘটনায় তৎকালীন পুলিশ সুপার এ কে এম এহসানউল্লাহর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দেন সাক্ষীরা।
মামলার সপ্তম সাক্ষী, বর্তমানে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি থানায় কর্মরত এএসআই মো. রাজু আহম্মেদ আদালতে জানান, ২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি আগৈলঝাড়া থানার ওসির কক্ষে এসপি এহসানউল্লাহ তাঁদের উপস্থিতিতে তৎকালীন এসআই মোস্তাফিজুর রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘ঢাকায় দুজন আসামি ধরা পড়েছে। তাদের নিয়ে অভিযানে যেতে হবে। গোলাগুলি হতে পারে এবং আসামি দুজনকে মাইনাস করা লাগতে পারে।’ পরে এসআই মোস্তাফিজুর এই কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে এসপি রাজু আহম্মেদকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘তুমি পারবা না?’ রাজু আহম্মেদ ‘নতুন মানুষ’ বলে অপারগতা প্রকাশ করায় এহসানউল্লাহ রেগে গিয়ে বলেন, ‘বেটা মফিজের বাচ্চা মফিজ, হাঁটুর নিচে বুদ্ধি তোমার। তোমরা কীভাবে চাকরি কর আমি দেখে নেব।’ পরদিন সকালে তিনি শুনতে পান, উজিরপুর থানা থেকে দুই পুলিশ সদস্য এনে দুই আসামিকে ক্রসফায়ার দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা রাজি না হলে পাশের থানা থেকে পুলিশ আনিয়ে ক্রসফায়ার দেন এসপি।’
অপরদিকে, মামলার ষষ্ঠ সাক্ষী বর্তমানে কুষ্টিয়ায় কোর্ট ইন্সপেক্টর পদে কর্মরত পরিদর্শক মনোরঞ্জন মিস্ত্রি জবানবন্দিতে বলেন, ২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় এসপি এহসানউল্লাহ আগৈলঝাড়া থানায় এসে ওসির কক্ষে বসেন। পরে তাঁকে ডেকে এসপি নির্দেশ দেন, ‘এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর একটি কাজ করে দিতে হবে। রাতে অভিযান আছে, ক্রসফায়ার দিতে হবে।’ তিনি নিজের অপারগতা জানালে এসপি হুমকি দিয়ে বলেন, ‘শালা তুমি এমপি সাহেবের কথা শুনবে না, আর এখানে চাকরি করবে। দেখি তুমি কীভাবে প্রমোশন নেও, তোমার এসিআর শেষ করে দেব।’
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার ও জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লাকে ক্রসফায়ার দেওয়া হয়। এই মামলায় চার আসামির মধ্যে সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও সাবেক এসপি এহসানউল্লাহ পলাতক। বাকি দুই আসামি—সাবেক এএসআই মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন—গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।




