রুশ আগ্রাসন অব্যাহত থাকার মধ্যে ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের দাবি তুলেছেন দেশটির সদ্য বরখাস্ত হওয়া প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা শুরুর পর প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে এটিই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার ইউটিউবে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় ৩৫ বছর বয়সী ফেদোরভ বলেন, রাশিয়ার কাছে আমাদের গণতন্ত্রকে জিম্মি করে রাখার সুযোগ দেওয়া যাবে না। ইউক্রেন যেহেতু একটি স্বাধীন ইউরোপীয় রাষ্ট্র হিসেবে থাকতে চায়, সেজন্যই এই লড়াই। উল্লেখ্য, যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনে সামরিক আইন действует, যার ফলে নির্বাচন অনুষ্ঠান আপাতত স্থগিত রয়েছে।
গত জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে হঠাৎ করেই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে অপসারিত হন ফেদোরভ। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ছয় মাসের মাথায় এই অপসারণ ঘটে। তার ভিডিওবার্তায় জেলেনস্কির নাম সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও, এই ইস্যুতে প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি।
ফেদোরভকে বরখাস্তের পর সারাদেশে যে প্রতিবাদের ঢেউ ওঠে, তা ক্রমেই প্রকট আকার ধারণ করে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে নতুন গতি সঞ্চার করার কৃতিত্ব তাকে দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ে তিনি দুর্নীতিবিরোধী কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দেন এবং তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে সম্মুখসারির যুদ্ধকৌশলের দক্ষতা ও কার্যকারিতা বাড়ানোর চেষ্টা করেন। তবে সেনাবাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ ওলেক্সান্দর সিরস্কির সঙ্গে তার মতবিরোধই মূলত এই বরখাস্তের কারণ বলে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।
ফেদোরভকে সরানোর প্রতিবাদে ইউক্রেনে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয় এবং একপর্যায়ে সেনাপ্রধান সিরস্কিকেও অপসারণের দাবি ওঠে। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই বিক্ষোভের ফলে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির ওপর চাপ ক্রমাগত বাড়তে থাকে। পরে সিরস্কিকেও তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
নিজের ভিডিওবার্তায় ফেদোরভ তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা সম্পর্কে কিছু বলেননি। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধের মধ্যেও ইউক্রেনের পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ফিরিয়ে আনার জন্য একটি আইনসম্মত, নিরাপদ ও বাস্তবসম্মত কাঠামো প্রয়োজন। তিনি মন্তব্য করেন, দেশটি বর্তমানে 'শাসনব্যবস্থার একটি পদ্ধতিগত সংকটের' মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং 'পরিবর্তনকে ভয় পাচ্ছে'।
পদ থেকে অপসারিত হওয়ার পর ফেদোরভকে সরকারের অন্য কোনো দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে সামরিক উদ্ভাবনবিষয়ক উপপ্রধানমন্ত্রীর পদও ছিল। কিন্তু তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শুধুমাত্র প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবেই তিনি আবার দায়িত্বে ফিরতে আগ্রহী।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী থাকাকালীন ফেদোরভ ড্রোন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধব্যবস্থা এবং সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। এক সময় তিনি স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ককে অনুরোধ করেন, যাতে রাশিয়া ড্রোন হামলার জন্য স্টারলিংক স্যাটেলাইট ব্যবহার করতে না পারে। এই উদ্যোগের ফলে রাশিয়ার সম্মুখসারির সামরিক কার্যক্রম ও অগ্রযাত্রায় উল্লেখযোগ্য বাধা সৃষ্টি হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।




