যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের প্রাইমারি নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ এক জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রবীণ নেত্রী ডেবি ওয়াসারম্যান শুলৎজ। তিনি এমন একটি নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন যেখানে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। মূলত জেরিম্যান্ডারিং বা নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণের কারণে তার পূর্ববর্তী আসনটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে ওঠায় তিনি এই সংখ্যালঘু-সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বেছে নেন।
দীর্ঘদিন ধরে ডেমোক্র্যাটিক রাজনীতিতে সক্রিয় ওয়াসারম্যান শুলৎজ সম্প্রতি ফ্লোরিডার ২৩তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টে দলীয় মনোনয়ন লাভ করেছেন। এই এলাকাটি মূলত আফ্রিকান-আমেরিকান ভোটারদের প্রাধান্যের জন্য পরিচিত। রাজ্যের আইনসভায় রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে নতুন করে সীমানা নির্ধারণের ফলে তার আগের আসনটির ভোটার গঠন বদলে যায়, যা তাকে নতুন কৌশল নিতে বাধ্য করে।
এই প্রাইমারিতে জয়ের মধ্য দিয়ে নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনে দলের প্রার্থী হিসেবে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই অঞ্চলে ডেমোক্র্যাটিক ভোটারদের শক্ত অবস্থান থাকায় তার পুনর্নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তবে স্থানীয় রাজনীতিতে এই ফলাফল দলীয় গণ্ডির বাইরেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ওয়াসারম্যান শুলৎজ এর আগে ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটির চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং হিলারি ক্লিনটনের ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তার এই সাম্প্রতিক জয় দলের মধ্যে তার অবস্থান আরও সুসংহত করল বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচনী বিশ্লেষকরা বলছেন, ফ্লোরিডার এই ঘটনা দেশজুড়ে জেরিম্যান্ডারিংয়ের প্রভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে। একই সঙ্গে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় একজন শ্বেতাঙ্গ নেত্রীর জয় স্থানীয় ভোটারদের মনোভাব সম্পর্কেও নানা প্রশ্ন তুলেছে। তবে ওয়াসারম্যান শুলৎজ তার সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ঐক্য ও উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রাইমারিতে ভোটার উপস্থিতি গত কয়েক বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি ছিল। আগামী সাধারণ নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রিপাবলিকান পার্টির কোন প্রার্থী থাকবেন তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, সামনের লড়াইটি বেশ কঠিন হবে।




