বিশ্বের অন্যান্য শিক্ষাগন্তব্যের তুলনায় এখন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়া সবচেয়ে ব্যয়বহুল দেশে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি ভিসা আবেদন ফি ও পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসার ফি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়ান কর্তৃপক্ষ। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে এই নতুন ফি কার্যকর হয়েছে, যা বিভিন্ন শ্রেণির ভিসার ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ থেকে ২০০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষার শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট ভিসার বর্তমান আবেদন ফি পূর্বের দুই হাজার ডলার থেকে বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে দুই হাজার পাঁচশ অস্ট্রেলিয়ান ডলারে। তবে আসিয়ান (ASEAN) সদস্য দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই ফি নির্ধারণ করা হয়েছে দুই হাজার পঞ্চাশ ডলার। অন্যদিকে ইংরেজি ভাষা শিক্ষা (ELICOS) কোর্সের শিক্ষার্থীদের জন্যও একই পরিমাণ ফি ধার্য করা হয়েছে। পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় টেম্পোরারি গ্র্যাজুয়েট ভিসা (সাবক্লাস ৪৮৫)-এর আবেদন ফি চার হাজার ছয়শ ডলার থেকে বেড়ে এখন পাঁচ হাজার সাতশ পঞ্চাশ ডলার হয়েছে।

শুধু ভিসা ফি নয়, নিয়োগকর্তা-স্পনসরকৃত দক্ষ কর্মী ভিসার ক্ষেত্রেও ন্যূনতম বেতনসীমা বাড়ানো হয়েছে। এই ভিসার জন্য এখন সর্বনিম্ন বার্ষিক বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৯ হাজার ৪৯৯ অস্ট্রেলিয়ান ডলার, যা আগে ছিল ৭৬ হাজার ৫১৫ ডলার। তথ্যমতে, ২০২২ সালের পর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন ফি বেড়েছে ২৮৫ শতাংশ, আর একই সময়ে পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসার ফি বেড়েছে ১৪৮ শতাংশ। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসা ফি যেখানে দুই হাজার পাঁচশ অস্ট্রেলিয়ান ডলার, সেখানে যুক্তরাজ্যে প্রায় ৯৩৫, নিউজিল্যান্ডে ৭৯০, যুক্তরাষ্ট্রে ৭৭৫ এবং কানাডায় মাত্র ২৪০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার সমপরিমাণ ফি দিতে হয়।

শিক্ষা খাতের প্রতিনিধিরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়ার (আইইএএ) প্রধান নির্বাহী ফিল হানিউডের মতে, প্রতিযোগী দেশগুলো এই সিদ্ধান্ত থেকে লাভবান হবে। তিনি জানান, কোনো ধরনের পরামর্শ বা পর্যায়ক্রমিক বাস্তবায়নের সুযোগ না দিয়েই রাতারাতি সব ধরনের ভিসা ফি বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আকর্ষণে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো বাড়তি সুবিধা পাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ইনডিপেন্ডেন্ট হায়ার এডুকেশন অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী পিটার হেন্ডি এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেন, এই পরিবর্তনের ফলে একটি বৈশ্বিক শিক্ষাগন্তব্য হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার প্রতি শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।