জীবনে পাপ করে ফেলেছেন, এমন ভাবনা নিয়ে অনেকেই মানসিক চাপে ভোগেন। কিন্তু ইসলাম ধর্মে আল্লাহর ক্ষমার দরজা সর্বদা উন্মুক্ত। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি অপরাধবোধ বিষণ্নতা ও উদ্বেগের কারণ হতে পারে। অন্যদিকে, ক্ষমা চাওয়া এবং ক্ষমা পাওয়ার অনুভূতি মানসিক চাপ কমিয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ফিরিয়ে আনে (Worthington et al., 2007)। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, 'বলো, হে আমার বান্দারা যারা নিজেদের ওপর অত্যাচার করেছ, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব পাপ ক্ষমা করেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু' (সুরা জুমার, আয়াত: ৫৩)। এই আয়াতে 'আমার বান্দারা' বলে সম্বোধন করে আল্লাহ পাপীদের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক ছিন্ন করেননি বরং 'কুনুত' শব্দের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিরাশ না হতে বলেছেন এবং 'জামিয়া' শব্দের মাধ্যমে সব পাপ ক্ষমার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তবে বান্দার হক ছাড়া। সুরা বাকারার ২২২ নম্বর আয়াতে আরও বলা হয়েছে, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং যারা পবিত্র থাকে তাদের ভালোবাসেন'। এই আয়াতকে কোরআনের সবচেয়ে আশার আয়াত হিসেবে অভিহিত করেছেন এক সাহাবি। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, তওবা করলে পাপ শুধু মুছে যায় না বরং পুণ্যে রূপান্তরিত হয়। সুরা ফুরকানের ৭০ নম্বর আয়াতে 'তাবদিল' শব্দের মাধ্যমে এ বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। এই আয়াতের ব্যাখ্যায় মহানবী (সা.) বলেছেন, এটি সেই ব্যক্তির জন্যও প্রযোজ্য যে ব্যভিচার বা চুরির মতো বড় পাপ করেছে (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৭২৭)। আল্লাহর রহমত সবকিছুকে পরিব্যাপ্ত করে আছে (সুরা আরাফ, আয়াত: ১৫৬)। ইবনুল কাইয়িম (রহ.) এর মতে, আল্লাহর রহমতের তুলনায় বান্দার পাপ সমুদ্রে এক লবণদানার মতো। তওবার দরজা মৃত্যু পর্যন্ত উন্মুক্ত, তবে দেরি না করার জন্য বলা হয়েছে (সুরা নিসা, আয়াত: ১৭)। মহানবী (সা.) বলেছেন, 'আল্লাহ রাতে তাঁর হাত প্রসারিত করেন যেন দিনের পাপী তওবা করে, আর দিনে হাত প্রসারিত করেন যেন রাতের পাপী তওবা করে। এটা চলতে থাকে পশ্চিম দিক থেকে সূর্য ওঠা পর্যন্ত' (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৭৫৯)। আরও একটি হাদিসে এসেছে, 'আল্লাহ তাঁর তওবাকারী বান্দার তওবায় এতটাই খুশি হন, যতটা খুশি তোমাদের কেউ মরুভূমিতে উট হারিয়ে তারপর খুঁজে পেলে হয়' (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৭৪৭)। সুরা শুরার ২৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহই একমাত্র তওবা কবুলকারী। নিরাশ হওয়া মুমিনের কাজ নয় (সুরা ইউসুফ, আয়াত: ৮৭) কারণ 'রাওহ' শব্দটি রহমত ও শ্বাস উভয় অর্থ বহন করে, অর্থাৎ নিরাশ হওয়া নিজের শ্বাস বন্ধ করার মতো। তাই পাপের পরেও ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।