মোহাম্মদপুরের মির্জা পরিবারের পরিত্যক্ত বাড়ির পেছনে একটি পুরোনো কুয়া রয়েছে, যাকে স্থানীয়রা 'অতল কুয়া' বলে চেনে। কথিত আছে, এই কুয়ার কোনো তলা নেই—এতে পাথর ফেললে পতনের শব্দ পাওয়া যায় না, বরং এক গভীর নিস্তব্ধতা গ্রাস করে চারপাশ। শ্যামল নামের এক প্রাক্তন ডাকপিয়ন, যিনি বর্তমানে বাড়িটির দেখাশোনা করেন, দাবি করেন তিনি মাঝেমধ্যে কুয়ার ভেতর থেকে অস্পষ্ট কথাবার্তা ও যান্ত্রিক শব্দ শুনতে পান। অমাবস্যার রাতে এই শব্দ আরও স্পষ্ট হয় বলে তার ধারণা।

সম্প্রতি ফিলিপাইন থেকে আসা আদিল এহসান মির্জা তাঁর পরিবার নিয়ে বাড়িটি বিক্রির উদ্যোগ নিয়ে এসেছিলেন। তাঁর তিন বছর বয়সী কন্যা তাবাসসুমের কাপড়ের পুতুলটি খেলতে খেলতে কুয়ার ভেতরে পড়ে যায়। স্ত্রী শেহনাজ তাবাসসুমের জেদের মুখে এহসান শ্যামলকে কুয়ায় নামার নির্দেশ দেন। শ্যামল প্রথমে নানা অজুহাত দেখালেও শেষ পর্যন্ত বাধ্য হন।

চৌকিদার ইমানকে সঙ্গে নিয়ে শ্যামল কুয়ার পাড়ে আসে আসরের আজানের সময়। বিকেলের রোদে কুয়ার শেওলাপরা মুখটা বোয়াল মাছের হাঁ-মুখের মতো দেখাচ্ছিল। শ্যামল দড়ি বেঁধে কুয়ার ভেতরে নামতে শুরু করে। কিছু দূর নামার পর তার মুখের টর্চটি ফসকে নিচে পড়ে যায়। ঠিক সেই মুহূর্তে অন্ধকার থেকে লাফিয়ে ওঠে একটি ধবধবে সাদা বিড়ালাকৃতির জিনিস, যার ধাতব গায়ে আলো পড়ে। শ্যামল স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ায় সেটি ধরে ফেলে এবং দেখে এটি একটি পুরোনো আমলের তিন ব্যাটারির অ্যালুমিনিয়ামের টর্চ।

ঠিক একই সময়, আমেরিকার অরিগন রাজ্যের জোসেফ শহরের বাইরে ম্যাকঅ্যালিস্টার পরিবারের খামারবাড়ির একটি প্রাচীন কুয়ায় ফায়ারফাইটার ইথান কোল নামছিলেন। পরিবারের ছেলে এলির ছোট্ট জ্যাক রাসেল টেরিয়ার কুকুর পিপটি কুয়ায় পড়ে গিয়েছিল। ইথান পঞ্চাশ ফুট নামার পর একটি অস্পষ্ট ধাতব শব্দ শুনতে পান—ঠং ঠং ঠং—যা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। শেষ মুহূর্তে অন্ধকার থেকে লাফিয়ে উঠে আসা সাদা জিনিসটি তিনি ধরে ফেলেন। তার বিস্ময়ের সীমা রইল না যখন তিনি দেখলেন, তাঁর হাতে একটি পুরোনো অ্যালুমিনিয়ামের টর্চ, ঠিক শ্যামলের হাতে আসা টর্চের মতোই।

কুয়ার রহস্য এখনো অমীমাংসিত। শ্যামল দাবি করেন, কুয়ার তলা নেই এবং সেটি অনন্তকাল ধরে আছে। কেউ এটি খোঁড়েনি, কেউ বন্ধ করতে পারেনি। স্থানীয়রা কুয়াটিকে সমীহ করে, কিন্তু কেউ এর কাছে ঘেঁষতে সাহস পায় না। শ্যামল বলেন, 'এ কুয়া বন্ধ করবে কী করে? অতল কুয়ার তো তলা নাই।' দুটি মহাদেশে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি কুয়াটির রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে।