পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টের চতুর্থ দিনে পাকিস্তান ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে। এই জয়ের মাধ্যমে দুই ম্যাচের সিরিজে সমতা ফিরিয়ে এনেছে বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন দল। প্রথম টেস্টে ৯০ রানের জয় পেয়েছিল স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
বাবর আজমের ব্যাটিংয়ের ঝলকানিতেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়। জোমেল ওয়ারিক্যানের ওভারের প্রথম বলটি বাবরের প্যাডে লাগলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ রিভিউ নেয়, কিন্তু আম্পায়ারের নটআউট সিদ্ধান্তই বহাল থাকে। এরপরই বাবর আগ্রাসী মেজাজে খেলতে শুরু করেন। পরের বলটি তিনি মিড উইকেটের ওপর দিয়ে ছক্কা মারেন, তার পরের বলেও ছক্কা। এই দুই ছক্কায় পাকিস্তানের প্রয়োজনীয় রান পূর্ণ হয়ে যায়। ৭৫ রানের লক্ষ্যে পাকিস্তান ২ উইকেটে ৭৭ রান সংগ্রহ করে ম্যাচ জিতে নেয়।
তৃতীয় দিন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৬ উইকেটে ১০৩ রান নিয়ে দিন শেষ করেছিল। চতুর্থ দিনে বাকি ৪ উইকেটে তারা মাত্র ১৪ রান যোগ করতে সক্ষম হয়। পাকিস্তানের স্পিনাররা দুর্দান্ত বোলিং করে। সাজিদ খান ও আলী উসমান দুজনেই চারটি করে উইকেট নেন। সাজিদ খানের বোলিং ফিগার ছিল ৪/৩২, আর আলী উসমানের ৪/৩৯। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংস ১১৭ রানে শেষ হয়। তাদের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৪ রান করেন হজ, চেজ ও চন্দরপল ১৭ রান করে আউট হন।
প্রথম ইনিংসে ৪৩ রানের লিড নিয়েছিল পাকিস্তান। জয়ের জন্য তাদের সামনে ৭৫ রানের লক্ষ্য ছিল। দুই ওপেনার ইমাম উল হক (৯) ও আযান আওয়াইজ (১৮) দ্রুত আউট হয়ে গেলেও তৃতীয় উইকেটে আবদুল্লাহ শফিক ও বাবর আজম মিলে ৩৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন। দুজনেই অপরাজিত থাকেন ২৪ রান করে। শফিকের ব্যাটিংয়ে স্থিরতা ছিল, আর বাবরের আগ্রাসী ব্যাটিং ম্যাচের ভাগ্য দ্রুত নিষ্পত্তি করে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে ৩৮৭ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ২ উইকেটে ৭৭ (বাবর ২৪, শফিক ২৪; সিলস ১/৯)। ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংসে ৩৪৪ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১১৭ (হজ ৩৪, চেজ ১৭, চন্দরপল ১৭; সাজিদ ৪/৩২, উসমান ৪/৩৯)। ফল: পাকিস্তান ৮ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন আবদুল্লাহ শফিক। দুই টেস্টের সিরিজে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য সিরিজ নির্বাচিত হন জাস্টিন গ্রিভস ও বাবর আজম।



