আঞ্চলিক ক্রীড়া নেটওয়ার্কগুলোর পতনের জেরে এবার নিজস্ব প্রযোজনায় স্থানীয় সম্প্রচারের দায়িত্ব নিতে চলেছে ন্যাশনাল হকি লিগ (এনএইচএল)। ফ্যানডুয়েল স্পোর্টস নেটওয়ার্কের পতনের ফলে টালমাটাল অবস্থায় পড়ে যায় কয়েকটি এনএইচএল দল। তারা স্থানীয় সম্প্রচারের জন্য নতুন প্রযোজকের সন্ধানে নামে। এখন সেই শূন্যতা পূরণ করতে এগিয়ে এসেছে লিগ কর্তৃপক্ষ।
আগামী মৌসুম থেকে কলম্বাস ব্লু জ্যাকেটস, ক্যারোলিনা হারিকেনস, মিনেসোটা ওয়াইল্ড ও সেন্ট লুইস ব্লুজের স্থানীয় সম্প্রচার এনএইচএল প্রডাকশনের অধীনে পরিচালিত হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে লিগটি স্থানীয় মিডিয়া ব্যবসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর একটি নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দলগুলো এখন নিজেদের খেলা বিভিন্ন মাধ্যমে সম্প্রচারের পূর্ণ স্বাধীনতা পাবে—কেবল টিভি নয়, স্ট্রিমিং এবং ফ্রি-টু-এয়ার চ্যানেলেও সম্প্রচার করতে পারবে তারা।
এনএইচএলের প্রধান মিডিয়া কর্মকর্তা ডেভিড প্রপার বলেছেন, 'আমরা এই স্লোগান নিয়েছি—সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করা, যা আমরা আগে কখনও করিনি। দলগুলোকে এই সম্পদের নিয়ন্ত্রণ দিলে অনেক নতুন সুযোগ তৈরি হবে—ভক্তদের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া, আরও ভালো প্রচারণা এবং আরও বেশি অ্যাক্সেস। এখন তারা নিজেদের পছন্দমতো খেলা তৈরি করতে পারবে, নিজেদের বার্তা এবং প্রচারণা নিয়ে।'
কয়েক দশক ধরে ন্যাশনাল হকি লিগের দলগুলো স্থানীয় মিডিয়া স্বত্বের আয় পেত, কিন্তু খেলা তৈরির থেকে বিতরণ পর্যন্ত সবকিছু সামলাত অঞ্চলভিত্তিক ক্রীড়া নেটওয়ার্কগুলো। কিন্তু ফ্যানডুয়েল স্পোর্টস নেটওয়ার্কের পতনের ফলে সেই ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। এর আগে ২০২৩ সালে দেউলিয়া হওয়া ডায়মন্ড স্পোর্টস গ্রুপ থেকে উদ্ভূত মেইন স্ট্রিট স্পোর্টস গ্রুপ কিছু সময়ের জন্য ফ্যানডুয়েলের ব্যানারে খেলা সরবরাহ করলেও ২০২৬ সালে তারা অর্থনৈতিক চাপে হোঁচট খায়। এর জেরে দলগুলো নিজেদের খেলা দর্শকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নতুন পথ খুঁজতে বাধ্য হয়।
লিগ পর্যায়ে মিডিয়া কার্যক্রম পরিচালনা নতুন কিছু নয়। মেজর লিগ বেসবল (এমএলবি) ইতিমধ্যেই 'এমএলবি লোকাল মিডিয়া' গঠন করেছিল, যা অর্ধেকের বেশি লিগের সম্প্রচার গ্রহণ করেছিল অনেক আরএসএন চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর। ন্যাশনাল বাস্কেটবল অ্যাসোসিয়েশন (এনবিএ) নিজস্ব টিভি চ্যানেল পরিচালনা করে এবং লিগ প্রোগ্রামিং তৈরি করে, কিন্তু স্থানীয় সম্প্রচার এখনও মূলত আরএসএন-এর মাধ্যমেই হয়।
এনএইচএলের এই পদক্ষেপ মূলত ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পিত একটি কৌশল। সংস্থাটি ইতিমধ্যেই বড় ইভেন্ট যেমন স্টেডিয়াম সিরিজ, উইন্টার ক্লাসিক, এনএইচএল ড্রাফট এবং এনএইচএল অ্যাওয়ার্ডের মতো অনুষ্ঠানের প্রযোজনা করে আসছে। স্থানীয় সরাসরি সম্প্রচারে এই সম্প্রসারণের পরিকল্পনা আগামী ২০২৮ সালের দিকে থাকলেও ফ্যানডুয়েলের পতন সেই সময়সূচি ত্বরান্বিত করেছে বলে জানিয়েছেন এনএইচএলের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা কাইল মেয়ার।
নতুন ব্যবস্থায় দলগুলোকে লিগকে উৎপাদন ফি দিতে হবে, তবে সেই ফি কিছুটা ছাড় দেবে কর্তৃপক্ষ। মেয়ারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতি ম্যাচের উৎপাদন ব্যয় যদি ৬৫ হাজার ডলার হয়, তবে দলগুলোকে দিতে হবে প্রায় ৫০ হাজার ডলার, বাকি অবকাঠামোগত ও উন্নয়নমূলক খরচ বহন করবে লিগ। এই ব্যয় পুরোনো আরএসএন চুক্তির তুলনায় সমতুল্য হলেও বিজ্ঞাপন ও অন্যান্য স্পনসরশিপ থেকে প্রত্যাশিত আয়ের সম্ভাবনা অনেক বেশি।
তবে এই পরিবর্তন চ্যালেঞ্জ ছাড়া নয়। পুরোনো মডেলে দলগুলো কোনো উৎপাদন খরচ ছাড়াই নির্দিষ্ট রাজস্ব পেত। নতুন মডেলে তারা সেই গ্যারান্টিযুক্ত রাজস্ব হারাচ্ছে এবং এখন তাদের নিজেদেরই রাজস্ব তৈরি করতে হবে। কলম্বাস ব্লু জ্যাকেটসের যোগাযোগ বিভাগের সহ-সভাপতি টড শ্যারক বলেছেন, 'উৎপাদনের দায়িত্ব নিতে হলে আমাদের অতিরিক্ত বিনিয়োগ করতে হবে। আমরা কোনো উৎপাদন খরচ থেকে কিছু উল্লেখযোগ্য খরচের দিকে গিয়েছি। এই আর্থিক চিত্র দুই দিক থেকেই চ্যালেঞ্জিং—একদিকে আমরা মিডিয়া স্বত্ব ফি থেকে আয় হারাচ্ছি, অন্যদিকে এখন আমাদের খেলা তৈরি করতে অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।'
এখনও অনেক বিষয় অমীমাংসিত। দর্শকরা এখনও জানেন না তাদের খেলা কোথায় দেখানো হবে, তাদের একাধিক সাবস্ক্রিপশনের প্রয়োজন হবে কিনা বা কত খরচ হবে। শ্যারক বলেন, 'আমরা এখনও ঠিক করছি কোথায় খেলা দেখানো হবে, তবে লক্ষ্য হলো এগুলিকে আগের চেয়ে আরও সহজলভ্য বা অন্তত সমান সহজলভ্য করা।'
এনএইচএলের নির্বাহীরা বলছেন, তারা শুধু অঞ্চলভিত্তিক স্পোর্টস নেটওয়ার্কগুলো প্রতিস্থাপন করছেন না, বরং একটি স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তুলছেন যা ভবিষ্যতে হকির বাইরেও অন্যান্য ক্লায়েন্টকে সেবা দিতে পারে। মেয়ারের কথায়, 'আমরা এটিকে ভবিষ্যতের ব্যবসায়িক সুযোগ হিসেবে দেখছি—শুধু আমাদের এনএইচএল ক্লাবের জন্যই নয়, বরং বাইরের ক্লায়েন্টদের জন্যও, শুধু খেলাধুলায় নয়, বিনোদনেও। যদি আমাদের উৎপাদন অবকাঠামো থাকে, তাহলে কেন একই স্ট্রিমাররা তাদের কাজ করতে আমাদের কাছে আসবে না?'


