বেশ কিছুদিন ধরেই মেটার স্মার্ট চশমা নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে প্রযুক্তি মহলে। এই চশমার মাধ্যমে জনসমক্ষে অন্যদের অজান্তে ভিডিও ধারণ করে ‘প্রাঙ্ক’ বা ‘সামাজিক পরীক্ষা’ নামে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে নারীদের সঙ্গে কথোপকথন বা তাদের প্রতিক্রিয়া গোপনে ধারণ করে প্রকাশ করার ঘটনা গোপনীয়তা লঙ্ঘন ও হয়রানির অভিযোগ এনে দিয়েছে। এই সমস্যার সমাধানে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে মেটা। সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় ইনস্টাগ্রামের প্রধান অ্যাডাম মোসেরি জানিয়েছেন, অন্যকে বিব্রত করার লক্ষ্যে বা হয়রানির উদ্দেশ্যে ধারণ করা যেকোনো ভিডিও ইনস্টাগ্রামে প্রকাশের অনুমতি দেওয়া হবে না। বিশেষ করে তথাকথিত ‘পিকআপ লাইন’ ধরনের ভিডিও, যেখানে মানুষের অজান্তে তাদের প্রতিক্রিয়া ধারণ করে প্রচার করা হয়, সেগুলো প্ল্যাটফর্ম থেকে অপসারণ করা হবে। মোসেরি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমরা চাই না, কেউ গোপনে অন্যের ভিডিও ধারণ করে তাকে হয়রানি করুক এবং পরে সেই ভিডিও আমাদের প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করুক।’ মেটার এই ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই এটিকে স্বাগত জানিয়েছেন, তবে কেউ কেউ বলছেন, এই নীতিমালা যথাযথভাবে প্রয়োগ করাই বড় চ্যালেঞ্জ হবে। বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জনসমক্ষে নারীদের অসম্মতিতে নিয়মিত ভিডিও ধারণ ও প্রকাশ করা দুটি আলোচিত ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ইতিমধ্যেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মেটা নিশ্চিত করেছে, স্মার্ট চশমায় ধারণ করা হয়রানিমূলক কনটেন্ট প্রকাশের কারণেই ওই অ্যাকাউন্ট দুটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, মেটা কেবল নীতিমালা কঠোর করেই থেমে থাকেনি। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি স্মার্ট চশমার জন্য একটি সফটওয়্যার হালনাগাদ চালু করেছে। এই আপডেটের ফলে, ভিডিও ধারণের সময় যে এলইডি নির্দেশক আলো জ্বলে ওঠে, সেটি কেউ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করলেই চশমার ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। অর্থাৎ, কারও অজান্তে ভিডিও ধারণের সম্ভাবনা আরও কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। সমালোচকরা মনে করছেন, অনেক কনটেন্ট নির্মাতা মেটার স্মার্ট চশমা বা একই ধরনের পরিধেয় ক্যামেরা ব্যবহার করে সেবাকর্মী, পথচারী বা অন্য সাধারণ মানুষের অজান্তে ভিডিও ধারণ করেন, যা বিনোদনের সীমা ছাড়িয়ে সরাসরি হয়রানিতে পরিণত হয়। এই কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেটার স্মার্ট চশমাকে ‘বিকৃত মানসিকতার মানুষের চশমা’ বা ‘শিকারির চশমা’ বলেও আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। এমন নেতিবাচক পরিচিতি পণ্যটির ভাবমূর্তির জন্যও অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে। এনগ্যাজেটের তথ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মেটা তাদের প্ল্যাটফর্মে হয়রানিমূলক কনটেন্টের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে এই নীতি বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
গোপন ভিডিও ধারণ করে হয়রানি: ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধের ঘোষণা মেটার
মেটা জানিয়েছে, তাদের স্মার্ট চশমা ব্যবহার করে গোপনে ভিডিও ধারণ করে জনগণকে হয়রানি বা বিব্রত করার উদ্দেশ্যে তৈরি কনটেন্ট ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করলে সেই অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করা হবে। ইতিমধ্যে দুটি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে।




