বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র সৌদি আরবের আবকাইক শোধনাগার কমপ্লেক্সে ব্যাপক ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। কৃত্রিম উপগ্রহের ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, স্থাপনাটির চারপাশে বিস্তৃত ধোঁয়া ও পোড়া দাগ ছড়িয়ে পড়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উপসাগরীয় অঞ্চলের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, হামলায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সামান্য। তবে ইন্টারনেটে প্রকাশিত ছবিতে কমপ্লেক্সের কিছু অংশে স্পষ্ট পোড়ার চিহ্ন লক্ষ্য করা গেছে।
ইয়েমেনের ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তাদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানান, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল থেকে ইয়ানবু বন্দরে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ ও পরিবহনের সংবেদনশীল কেন্দ্র লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি সরাসরি আবকাইকের নাম উল্লেখ না করলেও দেওয়া বিবরণটি ওই শোধনাগারের সঙ্গেই মিলে যায়। অন্যদিকে সৌদি আরব তাদের পূর্বাঞ্চলীয় তেল অবকাঠামোয় হামলার ঘটনা স্বীকার করে ইরাকে সক্রিয় ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের দায়ী করেছে।
আবকাইক শোধনাগার বিশ্বের দৈনিক অপরিশোধিত তেলের পাঁচ শতাংশ প্রক্রিয়াজাত করে। এই কেন্দ্রটি সৌদি আরবের পূর্ব দিকের তেলক্ষেত্রগুলোর সঙ্গে লোহিত সাগরের ইয়ানবু রপ্তানি টার্মিনালকে যুক্ত করেছে। ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল ইয়ানবুতে পৌঁছায়, যা সুয়েজ খাল হয়ে ইউরোপ কিংবা বাব আল-মানদেব প্রণালি হয়ে এশিয়ায় রপ্তানি হয়। হরমুজ প্রণালির বিকল্প হিসেবে এই পাইপলাইনকেই রিয়াদের প্রধান ভরসা বলে মনে করা হয়। ফলে এই সরবরাহ লাইনে যেকোনো বিঘ্ন সৌদির তেল রপ্তানি সীমিত করে বিশ্ববাজারে সংকট সৃষ্টি করতে পারে।
হুতিদের দাবি, ইয়েমেনে সাম্প্রতিক সৌদি বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে। রিয়াদ হুতিদের লক্ষ্য করে পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করার পর গোষ্ঠীটি সৌদির ওপর নৌ অবরোধ আরোপের হুমকিও দিয়েছে। ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটল। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরান-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশ ও তাদের জ্বালানি অবকাঠামোকে ক্রমেই লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। এই হামলাকে বড় ধরনের উসকানি ও যুদ্ধপরিস্থিতির বিস্তৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান লক্ষ্য করে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার আগে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের আগাম সতর্কবার্তা দেয়নি। ফলে উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকিতে পড়ে যায়। তাদের ধারণা, মার্কিন সামরিক শক্তি মূলত নিজেদের এবং ইসরায়েলের সম্পদ সুরক্ষায় ব্যস্ত থাকায় উপসাগরীয় মিত্রদের নিরাপত্তা অরক্ষিত রয়ে গেছে।




