রাজশাহীর তানোর উপজেলায় ২০২০ সালে সংঘটিত এক ধর্ষণ মামলার রায়ে স্থানীয় একটি গির্জার ফাদার প্রদীপ গ্রেগরিকে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার বিকেলে রাজশাহীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও শিশু আদালতের বিচারক শরমিন আকতার এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে রায় মেনে নিতে পারেননি ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার। তারা ন্যায়বিচারের আশায় উচ্চ আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রায় ছয় বছর ধরে মামলা চালাতে গিয়ে তাদের মানসিক ও সামাজিকভাবে চরম কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে কিশোরী তানোরের মুণ্ডুমালা মাহালীপাড়া এলাকায় সাধুজন মেরী গির্জার কাছে ঘাস কাটতে গিয়েছিল। দীর্ঘ সময় পরও সে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। আত্মীয়স্বজনের বাড়ি ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খুঁজেও কিশোরীর সন্ধান মেলেনি। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে তারা জানতে পারেন, কিশোরীটি গির্জার তৎকালীন ফাদার প্রদীপ গ্রেগরির কক্ষে আটকে আছে। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা গির্জার কাছে জড়ো হন এবং পুলিশে খবর দেন। ২৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় পুলিশ গির্জা থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করে তানোর থানায় নিয়ে যায়। পরদিন ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে রাজশাহী নগরের ওমরপুর আমচত্বর এলাকা থেকে প্রদীপ গ্রেগরিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মুন্না সাহা বলেন, আদালত হয়তো শুধুমাত্র মেডিকেল রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে রায় দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, মেডিকেল রিপোর্ট সাপোর্ট না করলেও ধর্ষণের ঘটনায় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নজির রয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরীকে অপহরণ করে তিন দিন আটকে রাখা হয়েছিল এবং সে আদালতে আসামির বিরুদ্ধে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছিল। আইনজীবী আরও অভিযোগ করেন, পরে কিশোরীকে তুলে নিয়ে গিয়ে জবানবন্দি সাজিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি একে দেশের চাঞ্চল্যকর ঘটনা হিসেবে আখ্যা দিয়ে ন্যায় বিচারের স্বার্থে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানান।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী আবুল কাসেম দাবি করেন, মামলাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং একজন ধর্মযাজককে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তার মতে, অভিযোগের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষ পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও গ্রহণযোগ্য নথি আদালতে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হওয়ায় বিচারক আসামিকে খালাস দিতে বাধ্য হয়েছেন। এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটলেও ভুক্তভোগী পরিবারের হতাশা ও ন্যায়বিচারের দাবি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।




