ট্রেইলার চালক মো. জামাল উদ্দিন (৫০) সিলেটে পণ্য খালাস শেষে চট্টগ্রাম বন্দরে ফিরছিলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার তিতাস সেতু এলাকায় রাস্তা সরু হয়ে যাওয়ায় গতি কমালে পাঁচ থেকে ছয় সদস্যের একটি ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ট্রেইলারটিতে হামলা চালায়। তারা সামনের যাত্রীর পাশের জানালার কাচ ভেঙে ধারালো অস্ত্র দিয়ে চালকের গলায় আঘাত করে। তীব্র যন্ত্রণা ও রক্তক্ষরণ সত্ত্বেও জামাল উদ্দিন গাড়ি থামাননি; বরং দ্রুত এগিয়ে যেতে থাকেন। কিছুদূর যাওয়ার পর তিনি দুর্বল বোধ করলে সহকারী মো. বেল্লালকে (২৮) ড্রাইভিংয়ের দায়িত্ব অর্পণ করেন। বেল্লালকে নির্দেশ দেন, কোনো অবস্থাতেই গাড়ি না থামিয়ে চট্টগ্রামের পথে অগ্রসর হতে। কিন্তু ফেনীর মহিপাল এলাকায় পৌঁছানোর আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে জামাল উদ্দিনের মৃত্যু ঘটে।

বেল্লাল পরে একই পরিবহন সংস্থার অপর চালকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং মঙ্গলবার সকাল আটটার দিকে মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানাধীন ফারদিন মডেল পাম্প সংলগ্ন স্থানে ট্রেইলারটি নিয়ে পৌঁছান। সেখানে গিয়ে তিনি থানা পুলিশকে বিষয়টি জানান। পুলিশ ট্রেইলারের কেবিন থেকে চালকের মরদেহ উদ্ধার করে।

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল হালিম জানান, প্রাথমিক তদন্তে নিহতের গলার ডান অংশে ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষতচিহ্ন দেখা গেছে। এই ক্ষত থেকেই অত্যধিক রক্তক্ষরণ হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় সংঘটিত হওয়ায় সেখানকার সংশ্লিষ্ট থানাকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে এবং তারাই পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে বলে জানান ওসি।

নিহত জামাল উদ্দিন ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার উত্তর চর আইচার গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত মুনাফ ব্যাপারীর পুত্র। সোমবার রাত প্রায় তিনটার দিকে সিলেটের শেরপুর থেকে পণ্যবাহী কনটেইনার নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন তিনি। তিতাস সেতু এলাকায় ডাকাত দলের কবলে পড়ে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান। এই ঘটনায় সড়কপথে পরিবহন শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।