নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে গত কয়েকদিনের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে অপহরণের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এক শিক্ষার্থীকে অচেতন অবস্থায় আন্তনগর মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের খাবার বগি থেকে উদ্ধার করা হয়। অন্যজন অপহরণকারীর হাতে কামড় দিয়ে চলন্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে লাফিয়ে প্রাণ বাঁচায়।

গত সোমবার দৌলতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১১ বছর বয়সী এক ছাত্রী টিফিনের সময় বিদ্যালয়ের গেটের বাইরে গেলে কয়েকজন যুবক তাকে রাস্তায় পড়ে থাকা একটি রুমাল তুলে দিতে বলেন। ওই রুমাল তোলার পর মেয়েটি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে তাকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে নিয়ে যাওয়া হয়। বিদ্যালয় ছুটির পর শিক্ষার্থী বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজ শুরু করেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে মোহনগঞ্জ রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ওই ট্রেনের খাবার বগি থেকে স্থানীয় লোকজন তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। তাকে নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এর আগের দিন রোববার বিকেলে মোহনগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯ বছর বয়সী আরেক ছাত্রীকে অপহরণের চেষ্টা চালানো হয়। বিদ্যালয় থেকে ফেরার পথে এক যুবক তাকে জোর করে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে মুখ চেপে ধরে। বিরামপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে শিশুটি অপহরণকারীর হাতে জোরে কামড় দেয় এবং চলন্ত গাড়ি থেকে নিচে লাফিয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন।

নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বারহাট্টা সার্কেল) সাব্বির হাসান জানান, ঘটনা দুটি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শামীমা আক্তার নামে এক অভিভাবক জানান, সন্তানদের নিয়ে সব সময়ই আতঙ্কে থাকেন। অপহরণের ঘটনায় সেই আতঙ্ক আরও বেড়েছে। তিনি শহরের সড়কগুলোতে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দ্রুত অপহরণ চক্রটিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

দৌলতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান বলেন, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অপর দিকে মোহনগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উম্মে হাবিবা আসমা জানান, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের বাইরে একা যেতে নিষেধ করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিভাবকদের সন্তানের চলাফেরায় নজরদারি বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ঘটনা দুটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত অপহরণকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।