পঞ্চগড় জেলার বোদা থানা এলাকায় পাঁচ ও ছয় বছর বয়সী দুই শিশুকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় এক ব্যক্তিকে আইনের হাতে তুলে দিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার আমিনুল ইসলাম (৪৫) পেশায় ব্যাটারিচালিত ভ্যানের চালক। শিশুদের পরিবারের দায়ের করা পৃথক দুটি ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আমিনুল প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে শিশুদের সাথে তার পরিচিতি ছিল। ছয় বছর বয়সী শিশুটি তাকে ফুপা এবং পাঁচ বছর বয়সী শিশুটি দাদু বলে ডাকত। নিজের নাতনি শিশুদের বয়সী হওয়ায় মেয়ে দুটি প্রায়ই তার বাড়িতে খেলতে যেত। পরিবারের সদস্যরা কেউ না থাকার সুযোগে আমিনুল বিস্কুট ও অন্যান্য খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের আলাদাভাবে তার ঘরে ডেকে নিতেন এবং ধর্ষণ করতেন। ঘটনার পর শিশুদের কান্না না করতে এবং পরিবারের কারও কাছে কিছু বলতে বারণ করে ভয়ভীতি দেখানো হতো।
সর্বশেষ গত শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে ছয় বছর বয়সী শিশুটি এবং রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে পাঁচ বছর বয়সী শিশুটি একইভাবে নিপীড়নের শিকার হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। এরপর শিশু দুটির আচরণে অস্বাভাবিকতা ও কান্নাকাটি দেখে সন্দেহ হয় পরিবারের। জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুরো ঘটনা খুলে বলে এবং জানায় যে তাদের সাথে একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটেছে।
খবর পেয়ে বোদা থানার পুলিশ সোমবার (১৩ জুলাই) দিবাগত রাতে অভিযুক্ত আমিনুলকে তার বাড়ি থেকে আটক করে। একই রাতে ভুক্তভোগী শিশুদের বাবা বাদী হয়ে বোদা থানায় পৃথক দুটি ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। পুলিশ উভয় মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করে। ওইদিনই শিশু দুটিকে চিকিৎসার জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মো. মাসুদ হাসান বলেন, শিশুদের শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং আলামত সংগ্রহ করে প্রতিবেদন আকারে আদালতে উপস্থাপন করা হবে। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোয়েল রানা জানান, আমিনুল ইসলামকে দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) আদালতে শিশুদের জবানবন্দি নেওয়ার কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।




