হজ পালনে ইচ্ছুক নাগরিকদের জন্য এবার খরচ কমানোর পথে এগোচ্ছে সরকার। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, অন্যান্য সুবিধা অটুট রেখে শুধুমাত্র বিমান ভাড়া হ্রাসের মাধ্যমেই হজের মোট ব্যয় কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী হজ ও উমরাহ মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই ঘোষণা দেন। হজ্জ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) এই মেলার আয়োজন করে।

প্রতিমন্ত্রী অনুষ্ঠানে আরও জানান, গত বছর টিকিটপ্রতি খরচ ১২ হাজার টাকা কমানো সম্ভব হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় চলতি বছর টিকিটপ্রতি খরচ আরও ২৫ হাজার টাকা হ্রাস করে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে হজের খরচ কমানোর নানা উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সৌদি সরকারের কাছে বিমান টিকিটের ওপর আরোপিত সৌদি বিমানবন্দরের নির্মাণ কর কমানোর অনুরোধ জানিয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত আরও বলেন, বাংলাদেশি হাজিদের আবাসন খরচ কমানোর জন্য বিশেষ সুবিধা প্রদানের বিষয়ে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দেশের অগ্রগতির জন্য নিরলস কাজ করছে বলে মন্তব্য করেন। সরকার হজযাত্রীদের জন্য যৌক্তিক খরচে, হয়রানিমুক্ত পরিবেশে হজ প্যাকেজ তৈরিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

হজযাত্রীদের সঙ্গে কোনো ধরনের কারসাজি বা প্রতারণা করা হলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন প্রতিমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, বাংলাদেশের হজযাত্রীদের মাত্র পাঁচ শতাংশ সরকারি মাধ্যমে হজ পালন করেন, বাকি ৯৫ শতাংশ বেসরকারি হজ এজেন্সির মাধ্যমে হজে যান। তিনি এজেন্সি মালিকদের সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সৌদি দূতাবাসের উপ মিশন প্রধান খালিদ সাঈদ আল হাদাল, হাবের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার এবং মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকদের মতে, জাতীয় পর্যায়ের এই হজ ও ওমরাহ মেলায় একই ছাদের নিচে দেশের শীর্ষ হজ এজেন্সিগুলোর প্যাকেজ, প্রয়োজনীয় তথ্য, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ এবং নির্বাচিত প্যাকেজে আকর্ষণীয় ছাড়ের সুযোগ পাওয়া যাবে। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে এবং দর্শনার্থীরা বিনামূল্যে প্রবেশ করতে পারবেন। শনিবার তিন দিনের এই মেলার সমাপ্তি ঘটবে।