দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে টানা তিন দিন ধরে চলা প্রবল বর্ষণে নাজুক অবস্থা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামী শুক্রেম্বর বিকেল পর্যন্ত আট বিভাগেই ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে। এরই মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তিনটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) জানিয়েছে, বৃষ্টিপাতের তীব্রতার কারণে সিলেট, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। তবে এই পরিস্থিতি তিন দিনের বেশি স্থায়ী হবে না এবং আগামী শনিবার থেকে উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানিয়েছেন, আগামী ৭২ ঘণ্টায় ভারী বর্ষণের কারণে উত্তর-পূর্ব, পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, ফেনী, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের কিছু এলাকায় হঠাৎ করে বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে বান্দরবানের সাঙ্গু, কক্সবাজারের মাতামুহুরী ও হবিগঞ্জের খোয়াই নদের পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা নদীর পানিও আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে চট্টগ্রামের আমবাগানে, যেখানে ২৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বান্দরবানে ২১০, কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ২৩০, ময়মনসিংহে ১৭৫ ও মৌলভীবাজারে ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ভারতের মেঘালয় ও ত্রিপুরাসহ উজান এলাকাতেও একই সময়ে ভারী বৃষ্টি হয়েছে এবং আগামী চার দিন সেখানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি এখন নেই, তবে এর কিছুটা প্রভাব রয়ে গেছে। বর্তমানে যে বৃষ্টি হচ্ছে তা বর্ষা মৌসুমের স্বাভাবিক বৃষ্টি। তবে বায়ুতাপের তারতম্যের কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হাওয়া বইছে এবং বৃষ্টিও বেশি হচ্ছে। তিনি আরও জানান, চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে ময়মনসিংহ নগরের বাঁশবাড়ি কলোনি এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বস্তির বহু ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় রান্না-খাওয়া বন্ধ রয়েছে। বাসিন্দারা বলছেন, বৃষ্টি হলেই এলাকায় জলাবদ্ধতা হয়, কিন্তু টানা বৃষ্টিতে পানি জমে গিয়ে দূর্ভোগ বেড়েছে। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলেও একই চিত্র। সেখানে গতকাল সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত একটানা বৃষ্টি হয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হননি। রিকশাচালক আবদুল কাদির জানান, বৃষ্টির কারণে যাত্রীসংখ্যা কমে গেছে, ফলে সারাদিন ভিজে কাজ করেও আয় কম হয়েছে। সবচেয়ে বেশি কষ্ট পেয়েছেন দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামী ৪৮ ঘণ্টার জন্য দেশের সব বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। পাশাপাশি নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের মতে, বর্তমানে দেশের সব প্রধান নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে।




