অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ফিলিস্তিনের জাতীয় যুব দলের ফুটবলার ফাদি হামদাল্লাহ আল-নাসান। বয়স তাঁর মাত্র ১৭ বছর। ঘটনাটি ঘটে ১১ জুলাই পশ্চিম তীরের নিজ গ্রাম আল-মুঘাইয়িরে। ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শনিবার মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই শেষ হয় তাঁর। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা ও পরিবারের সদস্যরা ফাদির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
ফাদি আল-মুঘাইয়ির ক্লাবের হয়ে খেলতেন এবং ফিলিস্তিনের জাতীয় যুব দলের সদস্য ছিলেন। তাঁর এই মৃত্যু পশ্চিম তীরজুড়ে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও সেনাদের সংঘটিত ক্রমবর্ধমান সহিংসতার দিকে নতুন করে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ১৯৬৭ সাল থেকে পশ্চিম তীর ইসরায়েলের দখলে রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ হলেও সেখানে বসতি স্থাপনের কার্যক্রম দ্রুত বাড়িয়ে নিচ্ছে ইসরায়েল। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং জাতিসংঘ এই বসতি স্থাপনকে বর্ণবৈষম্যমূলক ব্যবস্থা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
গতকাল ফাদিকে নিজ গ্রামে দাফন করা হয়েছে। কালো পোশাক পরা শতশত শোকাহত মানুষ রামাল্লার ফিলিস্তিন মেডিক্যাল কমপ্লেক্স থেকে তাঁর মরদেহ গ্রামে নিয়ে যান। ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা যখন গ্রামে আক্রমণ চালায়, তখন ইসরায়েলের সেনারা ফাদির ঊরুতে গুলি করে। ফলে পরবর্তী সময়ে তাঁর পা কেটে ফেলতে হয়। এই আঘাত থেকেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ফাদির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলের আক্রমণে ফিলিস্তিনি ক্রীড়াঙ্গনে শহীদের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ফিলিস্তিনের ফুটবল পরিবারেই শহীদ হয়েছেন ৫৬৮ জন। ফাদির বাবা হামদাল্লাহ আল–নাসান জানান, গ্রামে হামলার সময় নারী ও মেয়েদের চিৎকার শুনে তাঁর ছেলে ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘সে সেখানে গিয়েছিল বলেই প্রাণ হারাল।’ ফাদির মা হানান আল–নাসান তাঁর ছেলেকে ‘খুব ভালো ছাত্র ও ফুটবল খেলতে ভালোবাসত’ বলে বর্ণনা করেন। সবাই তাকে পছন্দ করত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।




