হাওরাঞ্চলে ফের ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে এবার কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায়। মঙ্গলবার রাতে একটি শিশুর মরদেহ বহনকারী নৌকায় হামলা চালিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে নগদ অর্থ, মুঠোফোন ও সোলার প্যানেলের ব্যাটারি লুট করে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সময়মতো পুলিশি টহল ও নিরাপত্তা না থাকায় আবারও ডাকাত দল সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

এর আগে গত ৭ জুন মিঠামইনের হাওরেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। তখন পুলিশ দ্রুত সাড়া দিয়ে আন্তজেলা ডাকাত দলের তিন সদস্যকে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছিল। তবে এক মাসের ব্যবধানে আবারও ডাকাতি হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েছে। সন্ধ্যা হলেই হাওরাঞ্চলের নৌ-যাত্রীরা আশঙ্কায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই নৌকায় ছিল মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের চমকপুর গ্রামের বাবু মিয়ার নবজাতক কন্যাসন্তানের মরদেহ। শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মরদেহ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, করিমগঞ্জের বালিখলা ঘাট থেকে নৌকা ছাড়ার প্রায় পনেরো মিনিট পর চংনোয়াগাঁও স্লুইসগেট এলাকায় পৌঁছালে ছয় সদস্যের একটি ডাকাত দল ছোট নৌকায় করে এসে তাদের গতি রোধ করে। মৃত শিশুটির দাদা আবদুল হকের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যরা অনেক অনুনয়-বিনয় করে জানান নৌকায় একটি শিশুর মরদেহ রয়েছে। কিন্তু ডাকাত দল তা আমল না দিয়ে দেশীয় ধারাল অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এ সময় নৌকার যাত্রীদের কাছ থেকে তিনটি মুঠোফোন, নৌকার সোলার প্যানেলের ব্যাটারি এবং নগদ প্রায় চার হাজার টাকা তারা লুট করে নিয়ে যায়।

ওই নৌকার মাঝি রতন মিয়া বলেন, স্লুইসগেট এলাকায় পৌঁছালে ডাকাতরা নৌকায় উঠে সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে। বাধা দেওয়ার সাহস কেউ করেনি বলে জানান তিনি। চামড়াঘাট নৌ পুলিশের ইনচার্জ মো. ইস্কান্দার জানান, ঘটনার খবর পেলেও এখন পর্যন্ত কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সোহেব খান জানান, ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে নৌ পুলিশের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘ডাকাতদের দ্রুত শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। আগের ঘটনাতেও আমরা এক সপ্তাহের মধ্যে ডাকাতদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছিলাম। এবারের ঘটনাটিও গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।’ তিনি যাত্রী ও নৌ-চালকদের সন্ধ্যার পর হাওরাঞ্চলে চলাচল না করার পরামর্শ দেন। একইসঙ্গে তিনি জানান, ইতিমধ্যে করিমগঞ্জের বালিখলা ফেরিঘাট, নিকলী বেড়িবাঁধ ও ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অলওয়েদার সড়কে তিনটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। হাওরাঞ্চলে ডাকাতি প্রতিরোধে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, কয়েক বছর আগে হাওরাঞ্চলে ডাকাতির উৎপাত থাকলেও মাঝখানে কিছুদিন তা কমে গিয়েছিল। কিন্তু বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই আবারও ডাকাতদল সক্রিয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত নৌ পুলিশের টহল জোরদারের জোর দাবি জানিয়েছেন।