জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তবে ছয়জন সংসদ সদস্য তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেননি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা এই তালিকায় রয়েছেন। পাশাপাশি বিএনপির দুই সদস্য মির্জা আব্বাস ও মোস্তফা কামাল পাশা বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকায় তারা ভোট দিতে পারেননি। বিএনপির আরেক সদস্য ওসমান ফারুক এবং খেলাফত মজলিসের আবুল হাসানও ভোটদানে বিরত ছিলেন। আবুল হাসান বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন বলে তাঁর দলের মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদের প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকেও ভোটকেন্দ্রে দেখা যায়নি। উল্লেখ্য, বিএনপির আসলাম চৌধুরীর সংসদ সদস্য পদ আদালতের রায়ে আগেই বাতিল হয়ে যায়।

সংরক্ষিত নারী আসনসহ বর্তমান সংসদে মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন। এই নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। অপরদিকে, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। বাকি ছয়জন সংসদ সদস্য ভোটদানে বিরত ছিলেন।

ভোট না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে রুমিন ফারহানা প্রথম আলোকে বলেন, এই নির্বাচন তাঁর কাছে অর্থহীন ও প্রহসনের মনে হয়েছে। তিনি তিনটি যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। প্রথমত, ভোটে যখন কোনো অনিশ্চয়তা থাকে না, তখন সেটি প্রকৃত নির্বাচন হতে পারে না। ফলাফল আগে থেকেই সবার জানা থাকলে সেটিকে মনোনয়ন প্রক্রিয়া বলাই শ্রেয়, নির্বাচন নয়। দ্বিতীয়ত, দেশে এত বড় একটি গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে, যার সঙ্গে জাতির আত্মত্যাগ ও অসংখ্য স্বপ্ন জড়িয়ে আছে। সেই প্রেক্ষাপটে সবাই মিলে একজন অরাজনৈতিক ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত করা সম্ভব হয়নি—এটি দুঃখজনক। তৃতীয়ত, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ভোটের আগে বিএনপি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের ভয় দেখিয়েছে। অথচ ২০১৬ সাল থেকে দলটি ভিশন ২০৩০-এর কথা বলছে। এখন দলের বাইরে কেউ ভোট দিলে তার সদস্যপদ বাতিলের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমন প্রহসনের ভোটে অংশ নেওয়ার কোনো মানে হয় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে কেউ দল থেকে পদত্যাগ করলে বা নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়ে যায়। তবে পরবর্তী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।

এদিকে, ভোটগ্রহণের সময় ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান এক বিবৃতিতে জানান, দলটির একমাত্র সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ ভোটদানে বিরত থাকবেন। কারণ হিসেবে বলা হয়, জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে যে ঐকমত্য হয়েছিল, তা থেকে সরে আসায় দলটি এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। তবে পরবর্তীকালে জানা গেছে, ইসলামী আন্দোলনের সংসদ সদস্য ভোট দিয়েছেন।