জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার বেলা দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখোমুখি হন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। ভোট গণনার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। ঘোষিত ফলাফলে মির্জা ফখরুল ২৫৫ ভোট এবং অলি আহমদ ৮৮ ভোট লাভ করেন। এই ভোটের মাধ্যমে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হন।

ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়। শহরের শহীদ মোহাম্মদ আলী সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমবেত হতে শুরু করেন। জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা একত্রিত হয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন। সেখানে ‘আমাদের স্যার রাষ্ট্রপতি’, ‘হিপ হিপ হুররে প্রেসিডেন্ট’সহ নানা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পরিবেশ। একপর্যায়ে উপস্থিত নেতা-কর্মীরা আতশবাজি ফুটিয়ে আনন্দের বহিঃপ্রকাশ ঘটান। পরবর্তীতে তাঁরা সাধারণ মানুষের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেন, যা স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের আবহ আরও বাড়িয়ে তোলে।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান, যুবদলের সভাপতি আবু হানিফ, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কায়েস এবং ছাত্রদলের সভাপতি সুমন ইসলামসহ কয়েকজন নেতা শহীদ মোহাম্মদ আলী সড়কে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের মুখে মিষ্টি তুলে দেন। এ সময় মো. কায়েস বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁদের অভিভাবক। রাজনীতিতে তাঁর ত্যাগ ও সংগ্রামের কথা সারা দেশের মানুষ জানে। দেশের সর্বোচ্চ সম্মানিত আসনে তাঁর অধিষ্ঠান তাঁদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল; আজ সেই জয়ের মাধ্যমে শুধু দলীয় কর্মী নয়, গোটা জেলার মানুষ উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েছে।

বিএনপির জেলা কার্যালয় দেখভালের দায়িত্বে থাকা আনোয়ার হোসেনও ফলাফল শুনে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন। তিনি দ্রুত দুই কেজি মিষ্টি সংগ্রহ করে কার্যালয়ের আশপাশের লোকজনের মুখে তা তুলে দেন। তাঁর ভাষ্য, ‘স্যার প্রেসিডেন্ট—ভাবতেই ভালো লাগছে। এই খুশিতে মিষ্টি খাওয়ালাম।’ তিনি আরও জানান, এমন একটি মুহূর্তের জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা ছিল তাঁদের।

শুধু রাজনৈতিক কর্মীরাই নন, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাঙ্গনের মানুষেরাও এই বিজয়ে আনন্দিত। ঠাকুরগাঁওয়ের নাট্যকর্মী রূপ কুমার গুহঠাকুরতা মন্তব্য করেন, ‘তিনি তো আমাদেরই লোক। তাঁর এই অর্জন তাঁর প্রাপ্য ছিল।’ শহরের শিক্ষক রেহেনা বেগম মনে করেন, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর মির্জা ফখরুলের কাছে স্থানীয় মানুষের বড় প্রত্যাশা হলো—দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে সবার আস্থার প্রতীক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা। একই সঙ্গে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন ও জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন প্রত্যাশা পূরণে কাজ করাও তাঁর কাছে প্রত্যাশিত।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) ঠাকুরগাঁও শাখার সভাপতি আবদুল লতিফ বলেন, এলাকাবাসী সবাই তাঁকে ‘স্যার’ সম্বোধন করেন। দলমত-নির্বিশেষে সবাই তাঁর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে উচ্ছ্বসিত। ছাত্রজীবন থেকেই মির্জা ফখরুলের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পদচারণা ছিল বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। তাঁর এই বিজয় শুধু একটি দলের জয় নয়, বরং ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের গর্বের বিষয়—এমন মন্তব্যও শোনা যায় স্থানীয়দের মুখে।