পটুয়াখালী পৌরসভার নবাবপাড়া এলাকায় অবস্থিত একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন সিরিয়া ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিকত্বধারী মাজেন আল খতিব (৭৩)। শুক্রবার রাতে ওই বাসা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে সদর থানা পুলিশ। ঘটনার সূত্রপাত রাতের খাবারের ঘটনাকে ঘিরে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, প্রায় চার মাস আগে ওই বাড়িটির মালিক কে এম শাহাদাত হোসেনের কাছ থেকে নিচতলা ভাড়া নিয়ে একাই বসবাস করছিলেন এই বৃদ্ধ। এদিন রাতে তাঁর শ্যালিকা মোসা. তানিয়া আক্তার পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী রাতের খাবার নিয়ে হাজির হন বাসায়। কিন্তু ভেতর থেকে দরজা বন্ধ দেখে বহু ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি বাড়ির মালিককে বিষয়টি জানান।
পরিস্থিতি গুরুতর আঁচ করতে পেরে শাহাদাত হোসেন সদর থানায় যোগাযোগ করলে সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শিহাব বাহাদুর ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এক পর্যায়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মাজেন আল খতিবের মরদেহ পাওয়া যায়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের প্রয়োজনে মর্গে প্রেরণ করা হয়।
নিহতের পুত্র হাসান আল খতিব (৪৩) সাংবাদিকদের জানান, তার পিতা সিরিয়া ও বাংলাদেশের নাগরিক। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে তিনি বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। কয়েকদিন ঢাকায় থাকার পর পটুয়াখালীতে বসতি গড়েন। হাসান আরও বলেন, পরিবার তার সঙ্গে ছিল না, ফলে আপাতত মৃত্যুর কোনো সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
মোসা. তানিয়া আক্তার পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাদারবুনিয়ার স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি ব্যাখ্যা করে জানান যে, মাজেন আল খতিব তার জ্যেষ্ঠ বোনের স্বামী। জেলা সদরের নবাবপাড়া অঞ্চলে একটি বেসরকারি ক্লিনিক পরিচালনার কাজে যুক্ত থাকার কারণে তিনি এখানে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি মাঝে মধ্যেই সিরিয়ায় যাতায়াত করতেন। ২০০৬ সালে তার বোনের মৃত্যুহওয়ার পর থেকে তিনিই ভগ্নিপতির দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন।
তানিয়া আরও উল্লেখ করেন, গত শুক্রবারে ভগ্নিপতি তাকে ফোন করে বাড়ি থেকে খাবার রান্না করে আনার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই অনুসারে রাতে খাবার নিয়ে পৌঁছলে দরজা বন্ধ পাওয়া যায়। বারবার ডাকাডাকি সত্ত্বেও কোনো সাড়া না মেলায় শেষ পর্যন্ত বাড়িওয়ালাকে অবহিত করেন এবং একপর্যায়ে পুলিশ তলব করা হয়।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, নিহতের পুত্র ইতোমধ্যেই পটুয়াখালীতে উপস্থিত হয়েছেন। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।




