চট্টগ্রামের আনোয়ারায় একমাত্র সন্তানের বিরুদ্ধে নিজের মা-বাবাকে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার বেলা দেড়টার দিকে উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের গুজরা গ্রামের কুনীরবিল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত পুত্র রিমন দাশ গুপ্তকে (৩২) আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। নিহত ব্যক্তিরা হলেন স্বপন দাশ গুপ্ত (৬৫) ও তার স্ত্রী কল্পনা দাশ গুপ্ত (৫৫)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রিমন দীর্ঘদিন ধরে বেকার ছিলেন এবং কোনো কাজকর্ম করতেন না। এ বিষয়ে তার মা-বাবার সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে রিমন তার মাকে একটি ঘাস কাটার কাস্তে ও কাপড় কাটার কাঁচি দিয়ে গলায় বারবার কোপাতে থাকে। বাবা বাধা দিতে এলে তাকেও একইভাবে কুপিয়ে জখম করে সে। চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসেন। আহত অবস্থায় বাবাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়, অন্যদিকে ঘটনাস্থলেই মা মারা যান।

প্রতিবেশী কল্যাণ দাশ গুপ্ত বলেন, ‘গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে রিমন মাদকাসক্ত। তাকে বেশ কয়েকবার মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রেও চিকিৎসা করানো হয়েছে। আজ চিৎকার শুনে আমরা এগিয়ে এসে দেখি দুজনেই রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। পরে রিমনকে ধরে পুলিশে খবর দিই।’ আরেক প্রত্যক্ষদর্শী মেরী দাশ গুপ্ত বলেন, ‘আমি বাইরে কাজ করছিলাম। চিৎকার শুনে দৌড়ে এসে দেখি দাদাকে (স্বপন দাশ গুপ্ত) কাঁচি দিয়ে রিমন কোপাচ্ছে। এর আগে বৌদিকে (কল্পনা দাশ গুপ্ত) কুপিয়ে মারে সে। চোখের সামনে এত বড় ঘটনা গেল।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রিমন মাদকাসক্ত ছিলেন এবং এ নিয়ে প্রায় সময়ই মা-বাবার সঙ্গে তার তর্ক হতো। আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, ঘটনাস্থল থেকে কল্পনা দাশ গুপ্তের লাশ ও হাসপাতাল থেকে স্বপন দাশ গুপ্তের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত পুত্র রিমন দাশ গুপ্তকে আটক করা হয়েছে। দুপুরে চাকরি না করার কারণেই এই তর্কের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে মাদকাসক্তির বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হবে।