ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বিশ্বকাপের মালিকানা অংশীদারিত্ব বিক্রির পরিকল্পনা থেকে সরে আসার পর পদে বহাল থাকার লড়াইয়ে ফুটবলের বিভিন্ন আঞ্চলিক সংস্থার সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তিনি বিশ্বকাপের আসর সংখ্যা ও দল সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রস্তাবকে সমর্থন করতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ফিফার অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা কাঠামো ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির উদ্যোগটি সমালোচনার মুখে পড়লে তা প্রত্যাহারে বাধ্য হন তিনি। এই পটভূমিতে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করতে তিনি ফুটবলের বৈশ্বিক শাসন কাঠামোয় সংস্কারের বদলে প্রতিযোগিতার আকার বৃদ্ধির মতো জনপ্রিয় অথচ বাস্তবায়নে জটিল পদক্ষেপের দিকে ঝুঁকছেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
ইনফান্তিনো যদি বিশ্বকাপের দল সংখ্যা বর্তমান ৪৮ থেকে বাড়িয়ে ৬৪ বা তারও বেশি করার প্রস্তাব দেন, তাহলে এশিয়া ও আফ্রিকার মতো ফুটবলের উদীয়মান অঞ্চলের দেশগুলো স্বাভাবিকভাবেই এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানাবে। কারণ এতে করে এসব অঞ্চলের অধিক সংখ্যক দেশ বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার সুযোগ পাবে। ফলে ভোটের রাজনীতিতে ইনফান্তিনোর পক্ষে বিপুল সমর্থন তৈরি হতে পারে, যা তাকে পদ ধরে রাখতে সহায়তা করবে।
তবে বিশ্বকাপ সম্প্রসারণের এই উদ্যোগের বিরোধিতাও কম নয়। ইউরোপের শীর্ষ লিগ ও ক্লাবগুলো ইতিমধ্যেই ব্যস্ত সূচির কথা উল্লেখ করে আরও ম্যাচ যোগ করার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। পাশাপাশি খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক চাপের বিষয়টিও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিজাত ফুটবলারদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলোও এই ধরনের কোনো সম্প্রসারণের আগে খেলোয়াড়দের মতামত নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব বিক্রির পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ায় ইনফান্তিনোর কর্তৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তিনি ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থায় নিজের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে নতুন কৌশল অবলম্বন করছেন। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ফিফার কাউন্সিলের বৈঠকে এই সম্প্রসারণের প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে ব্যাপক আলোচনা ও লবিংয়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপের আকার বাড়ানো ফুটবলের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে সহায়ক হলেও এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল। যোগ্যতা অর্জন পর্বের কাঠামো, স্বাগতিক দেশ নির্বাচন পদ্ধতি ও ম্যাচ আয়োজনের লজিস্টিক চ্যালেঞ্জগুলো নতুন করে ভাবতে হবে। ইনফান্তিনো এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করবেন বলেই সংশ্লিষ্টদের ধারণা।




