দেশের পেস বোলিংয়ের বর্তমান উজ্জ্বল সময়ে নিজের অবস্থান তৈরি করাই এখন প্রধান লক্ষ্য ২১ বছর বয়সী রোহান উদ দৌলার। স্ট্রেস ফ্র্যাকচারের কারণে প্রায় দু'বছর মাঠের বাইরে থাকা এই তরুণ পেসার এখন আবারও নিজের ছন্দে ফিরছেন এবং জাতীয় দলের দরজায় কড়া নাড়ছেন।
গত কয়েক বছরে তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা, শরীফুল ইসলামদের হাত ধরে বাংলাদেশের পেস বোলিং যে উচ্চতায় পৌঁছেছে, সেই প্রসঙ্গ উঠলেই রোহানের চোখে নতুন স্বপ্ন। তিনি বললেন, এখন আর ফাঁকা মাঠে গোল করার সময় নেই, কারণ প্রতিযোগিতা এখন অনেক বেশি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এটাই ইতিবাচক দিক। কেউ সোনা বেছে নেবে নাকি হীরা—এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি জানান, তিনি অবশ্যই হীরা হতে চান। স্বর্ণযুগ চললেও তিনি নিজেকে হীরা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান, যাতে তাঁকে সবার আগে বেছে নেওয়া হয়।
দীর্ঘ চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকা অবস্থায় তিনি সৈয়দপুরে নিজের পরিবারের কাছে সময় কাটিয়েছেন। ঢাকার কংক্রিটের ব্যস্ততা থেকে দূরে সৈয়দপুরের শান্ত পরিবেশ, মায়ের সান্নিধ্য এবং চেনা হাওয়ায় তিনি নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করেছেন। ভোরের হাঁটা, সাইকেল চালানো আর গান শোনার মধ্য দিয়ে সেই সময়টা পেরিয়ে এসেছেন তিনি। মুভিতে পজ বাটনের মতোই সেই সময়টা ছিল তাঁর জন্য বিরতির মতো, যা এখন আবার চালু হয়েছে। এই দীর্ঘ বিরতি তাঁর ক্রিকেটের প্রতি ক্ষুধা বা আগ্রহকে একটুও কমাতে পারেনি।
চোটের সেই কঠিন সময়ে মায়ের উৎসাহই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় প্রেরণা। মা তাঁকে বলেছিলেন, মনে করো তুমি দুই বছর পর নতুন করে ক্রিকেট শুরু করেছ। এই সান্ত্বনা ও আস্থাই তাঁকে আবারও মাঠে ফিরিয়ে এনেছে। সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দলের বিপক্ষে লিস্ট 'এ' ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন তিনি, পেয়েছেন ৫ উইকেট। এর মধ্যে তিনটি ব্যাটসম্যানকে বোল্ড করেছেন। একই ওভারে টানা তিন উইকেট নেওয়ার পর একটি ওয়াইড বল দেওয়ায় হ্যাটট্রিকের সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে তাঁর।
ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শুরুটা টেপ টেনিস দিয়ে হলেও ষষ্ঠ শ্রেণিতে ওঠার পর একাডেমিতে ভর্তি হন। এলাকার বড় ভাইয়েরা তাঁর ক্রিকেট প্রতিভার কথা মা-বাবাকে জানালে তাঁকে পড়াশোনার পাশাপাশি ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের পর পেশাদার ক্রিকেটে অভিষেকও হয়ে যায়। তবে এখন পর্যন্ত তাঁর ক্যারিয়ারে মাত্র ১১টি লিস্ট 'এ' এবং ২টি স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। দুই বছর আগে বিপিএলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে খেলেছেন তিনি।
জাতীয় দলের পেস বোলিং আক্রমণে মোস্তাফিজুর রহমানের মতো অভিজ্ঞদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে জায়গা করে নেওয়া কঠিন চ্যালেঞ্জ বলে জানেন রোহান। তবে তিনি এই পথে এগিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। গতির জন্য যশপ্রীত বুমরা এবং সুইংয়ের জন্য ভুবনেশ্বর কুমারকে তিনি আদর্শ মানলেও কেউই তাঁর প্রতিমা নন। তিনি নিজের মতো করে নিজেকে গড়ে তুলতে চান। চোটের কারণে ক্যারিয়ারের শুরুতে বাধার মুখে পড়লেও তিনি হাল ছাড়েননি। তাঁর মতে, যেখান থেকে কষ্ট আসে, সেখান থেকেই সুখ খুঁজে পাওয়া যায়। এই মানসিকতা নিয়েই তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় ট্রাই-সিরিজ শেষে তিনি এখন অংশ নেবেন অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজে। তাঁর লক্ষ্য একটাই—নিজেকে সেরা 'হীরা' হিসেবে প্রমাণ করা।




