প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহকে নিয়ে সম্প্রতি যুক্তরাজ্যপ্রবাসী রিজভী আহমেদের ছড়ানো বিভিন্ন মন্তব্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চিত্রনায়িকা শাবনূর। রিজভীর 'ব্ল্যাকমেল', প্রেম এবং বিয়েসংক্রান্ত সব দাবিকে তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং বানোয়াট আখ্যা দিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে রোববার গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে শাবনূর জানান, সালমান শাহ তাঁর অত্যন্ত প্রিয় একজন সহশিল্পী এবং তিনি ছিলেন তাঁর বড় ভাইয়ের মতো। তাঁর মৃত্যুর ঘটনার সাথে শাবনূরের কোনো প্রকার সম্পর্ক নেই বলেও সাফ জানিয়ে দেন তিনি।
শাবনূর আরও বলেন, ১৯৯৯ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে বসবাস করা রিজভী আহমেদের সাথে তাঁর কখনো সরাসরি দেখা হয়নি। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে তিনি যুক্তরাজ্যও যাননি। অথচ রিজভী দাবি করছে, ওই সময়ে নাকি তাদের বিয়ে এবং বিচ্ছেদ ঘটেছে। এ প্রসঙ্গে শাবনূর বিদ্রুপের সুরে বলেন, তার এসব কথায় মনে হচ্ছে বাস্তবে কোনো বিয়ে হয়নি, সম্ভবত শুধু 'স্বপ্নের বাসর'ই হয়েছিল।
সম্প্রতি দুটি পৃথক সাক্ষাৎকারে রিজভী আহমেদ দাবি করেন, শাবনূর সালমান শাহকে ব্ল্যাকমেল করতেন। নিজের সাথে শাবনূরের সম্পর্ক নিয়েও তিনি দুই রকম বক্তব্য দিয়েছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শাবনূরকে মনে মনে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। আরেকটি সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ২০১৬ সালে নাকি তাদের বিয়ে হয়েছিল। রিজভীর এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে শাবনূর বলেন, একই ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলছে। কখনো সে নিজেকে রাজসাক্ষী বলছে, কখনো বলছে সালমান আত্মহত্যা করেছে, আবার কখনো বানিয়ে বানিয়ে তার সাথে সম্পর্কের গল্প বলছে। তিনি মনে করেন, কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে অথবা কারও প্ররোচনায় পড়েই রিজভী এইসব মিথ্যা কথা ছড়াচ্ছে।
উল্লেখ্য, সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় ১৯৯৭ সালে রাজসাক্ষী হয়েছিলেন রিজভী আহমেদ। তবে সম্প্রতি তিনি দাবি করেছেন, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছিলেন এবং এর জন্য সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী ও শাবনূর দায়ী। এই দাবির প্রেক্ষিতে শাবনূর বলেন, সালমান শাহর মৃত্যুর সাথে তার বিন্দুমাত্র সম্পর্ক ছিল না। এত বছর পর একজন মানুষ একেক সময় একেক কথা বলে তাকে জড়িয়ে মিথ্যা গল্প ছড়াবে, এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
বিষয়টি নিয়ে শাবনূর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্টও দিয়েছেন। সেখানে রিজভীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানানোর পর তার পাশে দাঁড়িয়েছেন অসংখ্য অনুরাগী। পোস্টটির নিচে হাজারো মন্তব্যও জমা পড়েছে। শাকিল আহমেদ নামের এক অনুরাগী সত্য উপস্থাপনের জন্য শাবনূরকে ধন্যবাদ জানিয়ে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সালমান শাহ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। আরেক অনুরাগী শেখ শামীম মন্তব্য করেছেন, অবাস্তব বাহুল্য বক্তব্যই প্রমাণ করে এসব নিছক বানোয়াট গল্প। এমন অপপ্রচারে বিচলিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। মোস্তাফিজুর রহমান মানিক ও মারিয়া আকতারসহ আরও অনেকেই রিজভীর বক্তব্যকে মানসিক রোগীর প্রলাপ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
শাবনূরের এই বক্তব্যের দিনই সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামি, খল চরিত্রের অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডন হককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার দুপুরে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাঁকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
১৯৯৩ সালে 'কেয়ামত থেকে কেয়ামত' সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে সালমান শাহর। মাত্র সাড়ে তিন বছরের অভিনয়জীবনে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করে ঢালিউডে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের বাসা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে প্রায় তিন দশক ধরে আলোচনা ও বিতর্ক চলছে। সালমান শাহর মৃত্যুর ২৯ বছর পর গত বছর আদালত হত্যা মামলা করার নির্দেশ দেন। তাঁর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে মামলাটি করেন তাঁর ভাই আলমগীর কুমকুম। রাজধানীর রমনা থানায় করা মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, অভিনেতা ডন হক, রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৩০ আগস্ট দিন ধার্য রয়েছে।
সালমান শাহর অকালমৃত্যু এখনো তাঁকে ব্যথিত করে জানিয়ে শাবনূর বলেন, তিনি চান নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হোক এবং এই ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।




