নেপাল ভ্রমণে গিয়ে একটি হোটেলের বাগানে দেখা হলুদ ফুলের প্রতি মুগ্ধ হন এক বাংলাদেশি লেখক। স্ত্রী রূপার জন্য ওই ফুলের বীজ সংগ্রহের ইচ্ছা ছিল তার। কিন্তু বীজ না পেয়ে তিনি স্থানীয় এক মালির সাহায্যে গাছের চারা সংগ্রহ করেন। নিজের ভাষাগত জটিলতার কারণে হিন্দিতে কথা বলতে গিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হলেও শেষ পর্যন্ত মালির সহানুভূতি পান তিনি। মালি তাকে একটি ছোট্ট চারা এনে দেন। সেই চারা দেশে ফেরার সময় ইমিগ্রেশনের ভয়ে ভেজা টিস্যু পেপার ও জিপলক ব্যাগে মুড়িয়ে লাগেজে রেখে আনেন লেখক।

দেশে এসে স্ত্রী রূপা গাছটি হাফড্রামে রোপণ করেন। তবে প্রথম ছয় মাস গাছের কোনো বৃদ্ধি দেখা যায়নি। এরপর হঠাৎ করে গাছটি দ্রুত বাড়তে শুরু করে এবং গাঢ় ও হালকা সবুজ পাতায় ভরে ওঠে। কিন্তু ফুল ফোটার কোনো লক্ষণ ছিল না। পাঁচ বছর কেটে যায়। একদিন প্রবল জ্বরে ভুগতে থাকা রূপা ছাদবাগানে গিয়ে দেখতে পান যে গাছে ফুল এসেছে। বিস্মিত লেখক দেখেন যে এটি তার প্রত্যাশিত হলুদ কাঞ্চন নয়, বরং নীল ও সাদা রঙের মিশেলে অপরাজিতা ফুলের মতো একটি অদ্ভুত ফুল।

রূপা হাসতে হাসতে বলেন যে এই গাছ বিশ্বকাপ সিজনের ফুল; তিনি আর্জেন্টিনার সমর্থক হওয়ায় গাছের ফুল হলুদ থেকে নীল-সাদায় রূপান্তরিত হয়েছে। লেখকের চোখে পানি আসে—আনন্দে না কষ্টে তা বুঝতে পারেন না। তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। স্ত্রীর জ্বরও সেই মুহূর্তে ভালো হয়ে যায়। পুরো ঘটনাটি লেখকের জন্য এক অনন্য ও অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতা হিসেবে থেকে যায়।

গাছটির প্রকৃত পরিচয় বা বৈজ্ঞানিক নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে এটি একটি ব্যক্তিগত স্মৃতি ও প্রকৃতির অদ্ভুত রহস্যের গল্প। নেপালের সেই হলুদ ফুলের গাছ বাংলাদেশের মাটিতে পাঁচ বছর পর এক ভিন্ন রূপে ফুটে উঠে প্রিয়জনকে চমক দিয়েছে।