কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যাপক বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ চাহিদাও তুঙ্গে। এই চাহিদা পূরণে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকরা এখন এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মুখে — সাশ্রয়ী মূল্যে বিদেশ থেকে সোলার প্যানেল আমদানি করা হবে, নাকি দেশের অভ্যন্তরেই উৎপাদন অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে?
ওয়াশিংটনের জন্য বিষয়টি এক কঠিন বাণিজ্যিক ও কৌশলগত দ্বিধা তৈরি করেছে। একদিকে রয়েছে জ্বালানি নিরাপত্তা, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের কাছে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী রাখার প্রতিশ্রুতি। সস্তা আমদানি নির্ভরতা বিদ্যুতের খরচ কম রাখতে সহায়ক হলেও দেশীয় শিল্প ও কর্মসংস্থানের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। অপরদিকে, দেশে উৎপাদন শুরু করলে আমদানি নির্ভরতা কমবে, তবে প্রাথমিক ব্যয় ও প্যানেলের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এআই ডেটা সেন্টারগুলো এখন বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ গ্রাস করছে, যা সামনের দিনগুলোতে আরও বাড়বে। ফলে সোলার প্যানেলের চাহিদা যেমন বাড়ছে, তেমনি এর সরবরাহ নিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপও তৈরি হচ্ছে। আমদানি-নির্ভর নীতি গ্রহণ করলে বিদেশি সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরতা আরও গভীর হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে এর বদলে দেশীয় উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়ালে সবুজ শক্তির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও সহায়ক হবে বলে মত দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
সরকারের সামনে এখন সুস্পষ্ট কোনো বিকল্প নেই বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি, কারণ এআই খাতের চাহিদা মেটাতে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো প্রয়োজন। দেশীয় উৎপাদন গড়ে তুলতে বছরের পর বছর সময় লাগতে পারে, আর সেই অপেক্ষায় আমদানি বন্ধ রাখলে বিদ্যুৎ সংকট আরও প্রকট হতে পারে।
বিষয়টি শুধু অর্থনৈতিক নয়, ভূরাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। সৌর প্যানেলের মূল সরবরাহকারী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ওপর নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি ভবিষ্যৎ। ফলে এই সিদ্ধান্ত আগামী দশকগুলোতে দেশটির জ্বালানি নীতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




