মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে সন্দেহের মধ্যে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এই জলপথে জাহাজের সংখ্যা প্রায় তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা আন্তর্জাতিক শিপিং ও জ্বালানি বাজারে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর পর থেকে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল আকার ধারণ করেছে। ওই হামলার আগে হরমুজ প্রণালী দিয়ে দৈনিক গড়ে ১৩০টি জাহাজ পারাপার হতো, যা বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের একটি বিশাল অংশ বহন করে। কিন্তু বর্তমানে সেই সংখ্যা প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে, যা এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতার মারাত্মক অবনতির ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট না হওয়ায় শিপিং কোম্পানিগুলো ঝুঁকি এড়াতে এই পথ ব্যবহার করা কমিয়ে দিয়েছে। এছাড়াও, সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় বীমা প্রিমিয়াম বেড়ে যাওয়াও জাহাজ চলাচলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ফলস্বরূপ, বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তবে, এই পরিস্থিতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালীর এই নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বিশ্বব্যাপী তেলের দামে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক উদ্যোগ যদি সফল না হয়, তাহলে এই সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।




