সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের একটি অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশে থাকা মাগা (MAGA) ইনফ্লুয়েন্সার এবং রক্ষণশীল লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড 'দ্য কনজারভেটর'-এর প্রতিষ্ঠাতা জেইমি ফ্র্যাঙ্কলিনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক অদ্ভুত গুজব ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ ওঠে, ফ্র্যাঙ্কলিনের পোশাকে একটি গোপন বোতাম বা যন্ত্র রয়েছে, যার মাধ্যমে তিনি ট্রাম্পকে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে জাগিয়ে তোলেন যদি তিনি জনসম্মুখে ঘুমিয়ে পড়েন। এই কারণে নেটিজেনরা তাকে 'দ্য জ্যাপার' বলে অভিহিত করতে শুরু করেন।
গত সোমবার শিশুদের জন্য নতুন টিকা সংক্রান্ত সুপারিশ ঘোষণার অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছিল, ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে ফ্র্যাঙ্কলিন বারবার তার পেটে হাত রাখছিলেন। ওই অনুষ্ঠানের কিছু ভিডিও ক্লিপে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চোখ বন্ধ অবস্থায় দেখা যাওয়ায় ষড়যন্ত্রবাদীরা ধারণা করেন যে, ফ্র্যাঙ্কলিন পেটে থাকা বিশেষ ডিভাইসের মাধ্যমে ট্রাম্পকে 'জ্যাপ' বা শক দিচ্ছিলেন। তবে বুধবার এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ফ্র্যাঙ্কলিন। তিনি অত্যন্ত সংক্ষিপ্তভাবে লিখেছেন, "আমি কেবল অন্তঃসত্ত্বা, অদ্ভুত মানুষ তোমরা।"
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনসমক্ষে চোখ বন্ধ করার অভ্যাস নিয়ে এর আগেও অনেক আলোচনা হয়েছে। যদিও তিনি দাবি করেছেন, বিরক্তি থেকে বা দীর্ঘক্ষণ চোখের পলক ফেলার কারণে অথবা বিশ্রামের জন্য তিনি এমনটা করেন। গত মাসে সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময়ও তিনি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন বলে গুঞ্জন উঠেছিল। তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ওই দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলা হয়েছিল, তিনি তার প্রিয় বন্ধুর প্রয়াণে শোকাতুর হয়ে গভীরভাবে চিন্তা করছিলেন এবং অন্য কোনো কথা বলাটা অত্যন্ত অজ্ঞতা।
সোমবারের অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ-এর পরিচালক ডক্টর জয় ভট্টাচার্যের বক্তব্যের সময় ৮০ বছর বয়সী ট্রাম্পকে কয়েকবার চোখ বন্ধ অবস্থায় দেখা যায়। ওই অনুষ্ঠানে তিনি একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন, যেখানে হাম, মাম্পস এবং রুবেলার (MMR) টিকা তিনটি আলাদা ডোজে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগকে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে শীর্ষ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাগুলো আলাদা করে দিলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে এবং অভিভাবকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক ও লজিস্টিক চাপ তৈরি হবে। একই সাথে ট্রাম্প শিশুদের টিকার সঙ্গে অটিজমের সম্পর্ক দাবি করেন এবং বর্তমান একক ডোজের এমএমআর টিকাকে 'মারাত্মক' বলে অভিহিত করেন। যদিও গত ৪০ বছর ধরে ব্যবহৃত এই টিকার নিরাপত্তা নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি।




