কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নারী চিকিৎসক অভয়ার (ছদ্মনাম) ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শবদাহ প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট এই মামলা রুজু করে, যাতে অভিযুক্ত হিসেবে নাম রয়েছে পানিহাটি আসনের তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক বিধায়ক নির্মল ঘোষ, পানিহাটি পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান সোমনাথ দে এবং সাবেক কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশনায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার দুই বছর পূর্তিতে রোববার পানিহাটিতে এক জনসভায় যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলেন, মৃত্যুর পর এত দ্রুত নারী চিকিৎসকের দেহ সৎকারের প্রয়োজন কেন হয়েছিল? অভিযোগ উঠেছে, নিহতের বাবা-মায়ের আপত্তি সত্ত্বেও তাদের অনুমতি ছাড়াই দেহটি দাহ করা হয়। ওই সময় পানিহাটি শ্মশানে আরও দুটি মরদেহ সৎকারের জন্য অপেক্ষমাণ ছিল, কিন্তু অভয়ার দেহকে বিশেষ মর্যাদা দিয়ে তড়িঘড়ি করে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। এই দাহকার্যের মূল নেতৃত্বে ছিলেন বলেই অভিযোগ সাবেক বিধায়ক নির্মল ঘোষ, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান সোমনাথ দে ও সাবেক কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে।
নিহতের পরিবার সেই সময়েই এই দ্রুত দাহ প্রক্রিয়া নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করতে পারেনি এবং প্রতিবাদ জানিয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও এর আগে একাধিক জনসভায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তাঁর দল ক্ষমতায় এলে আরজি কর হত্যাকাণ্ডের পুনর্তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে। সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এবার এই ঘটনার নতুন করে তদন্ত শুরু হলো। নতুন মামলায় নারী চিকিৎসকের হত্যাকাণ্ডের তথ্য-প্রমাণ গোপন করা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনার দিন রাতে হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে ওই রাতেই মরদেহ সৎকারের পেছনের কারণ খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শবদাহের সময় উপস্থিত চিকিৎসক, নার্স, শ্মশানঘাটের কর্মী ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিদের দ্রুত জিজ্ঞাসাবাদ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে।




