যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হাম, মাম্পস ও রুবেলা (এমএমআর) প্রতিরোধে ব্যবহৃত সম্মিলিত ভ্যাকসিনটি আলাদা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তাঁর এই ঘোষণার পরই দেশটির চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগের বৈজ্ঞানিক কোনো ভিত্তি নেই এবং এটি বাস্তবে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনাও অত্যন্ত ক্ষীণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এমএমআর ভ্যাকসিনের তিনটি উপাদান একসাথে দেওয়ার পেছনে রয়েছে সুদীর্ঘ গবেষণা ও ক্লিনিকাল ট্রায়ালের সাফল্য। একটি ডোজে তিনটি রোগের প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হওয়ায় শুধু সময়ই সাশ্রয় হয় না, বরং রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় ইনজেকশনের সংখ্যাও কমে আসে। এই সম্মিলিত ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা প্রমাণিত এবং এর নিরাপত্তা নিয়ে বারবার গবেষণা হয়েছে বলেও তারা মনে করছেন।

একদল চিকিৎসক ইতিমধ্যে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এমএমআর ভ্যাকসিনকে আলাদা করলে টিকাদান কর্মসূচির জটিলতা বাড়বে। এর ফলে টিকা গ্রহণের হার কমে যেতে পারে, যা মহামারির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাদের ভাষ্য, এমন কোনো শক্তিশালী কারণ নেই যার ভিত্তিতে এই ভ্যাকসিনের কাঠামো পরিবর্তন করা উচিত।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি হামের সংক্রমণ কয়েকটি রাজ্যে বাড়তে থাকায় টিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। যদিও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহল দাবি করছে, তিনি অভিভাবকদের কিছু উদ্বেগের কথা শুনে এমন মত দিয়েছেন। কিন্তু সরকারি স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে এখনও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, বিশ্বের প্রায় সব দেশেই এমএমআর একটি সুরক্ষিত ও কার্যকর ভ্যাকসিন হিসেবে স্বীকৃত। এটিকে আলাদা করার কোনো প্রস্তাব গৃহীত হলে তা স্বাস্থ্যব্যবস্থায় নতুন সংকট তৈরি করবে। কারণ, তখন আলাদাভাবে তিনটি ভ্যাকসিনের যোগান, সংরক্ষণ ও প্রয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে, যা চিকিৎসা খাতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক অঙ্গনে ট্রাম্পের এই বক্তব্য ভ্যাকসিনবিরোধী একটি অংশকে খুশি করার কৌশল হতে পারে। তবে বিজ্ঞানসম্মত যুক্তির বিপরীতে গেলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেও তারা মনে করছেন।