সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে চড়া ভাব দেখা দিয়েছে। পেঁয়াজ, মুরগি, ডিম, বিভিন্ন ধরনের সবজি ও মাছের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার, আগারগাঁও তালতলা বাজার ও হাতিরপুল বাজার ঘুরে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
পেঁয়াজের বর্তমান বাজার মূল্য কেজিপ্রতি ৪৫ থেকে ৫৫ টাকা, যা সপ্তাহখানেক আগেও ছিল ৩৫-৪৫ টাকা। অর্থাৎ কেজিতে বেড়েছে ১০-১৫ টাকা। কোনো কোনো বাজারে পেঁয়াজ ৬০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি পর্যায়ে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার হাটগুলোতে প্রতি মণ পেঁয়াজ ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায় লেনদেন হয়েছে। সেখানে কেজি প্রতি দাম দাঁড়ায় ৩৫ থেকে সাড়ে ৪২ টাকা। কিন্তু ঢাকার পাইকারি বাজারে পৌঁছাতেই এই দাম আরও বেড়ে যায়। যেমন শ্যামবাজারে পাইকারি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৪৭ টাকা কেজি।
পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির পেছনে সরবরাহ কমে যাওয়াকে মূল কারণ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, বর্তমানে কৃষকেরা পাট কাটা, পরিবহন ও বিক্রির কাজে ব্যস্ত থাকায় উৎপাদনস্থলের হাটগুলোতে তুলনামূলকভাবে কম পেঁয়াজ আসছে। ফলে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। তবে এতে কৃষকেরা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন বলে জানান সাঁথিয়ার বোয়ালমারী হাটের আড়তদার ও পেঁয়াজচাষি রাজা হোসেন। তিনি বলেন, দুই সপ্তাহ আগেও প্রতি মণ পেঁয়াজ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, যা দিয়ে উৎপাদন খরচও উঠছিল না। বর্তমানে দাম বাড়লেও কৃষকদের ঘরে এখনো প্রচুর পেঁয়াজ মজুত রয়েছে।
পেঁয়াজের পাশাপাশি বাজারে ডিম ও মুরগির দামও চড়া। ফার্মের বাদামি রঙের এক ডজন ডিম ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে এ দাম আরও বেশি। ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ টাকা এবং ধরনভেদে সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিন সপ্তাহ আগে এসব দাম ছিল কেজিতে ৩০-৪০ টাকা কম। এছাড়া রুই, তেলাপিয়া ও পাঙাশ মাছের দামও এক মাস আগের তুলনায় বেড়েছে। বিশেষ করে রুই মাছের কেজিতে ৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম রাখা হচ্ছে।
সবজির বাজারেও একই চিত্র। টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। বাজারে ৮০ টাকার নিচে তেমন কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। বেশিরভাগ সবজির কেজি ১০০ টাকার ওপরে। এক মাসের ব্যবধানে সবজিভেদে কেজিতে ২০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, কাঁচা মরিচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৮০ টাকায়, যা এক মাস আগেও ছিল ১২০-১৪০ টাকা—অর্থাৎ প্রায় দ্বিগুণ। বেগুন ১০০-১২০ টাকা, আর বরবটি, চিচিঙ্গা, ঝিঙে, ঢেঁড়স ও করলার দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকায় উঠেছে।
পাইকারি ব্যবসায়ীদের মতে, বৃষ্টির কারণে অনেক পণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এবং চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এসব পণ্যের দাম বেড়েছে। ক্রেতারা দামের এই ঊর্ধ্বগতিতে চাপে পড়েছেন বলে জানান। বাজারে গতকালের চিত্রে দেখা গেছে, সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি।




