দিনাজপুরের বিরামপুরে খাস পুকুরের ইজারার আবেদন জমা নেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট গন্ডগোলের মধ্যে এক পুলিশ সদস্যকে লাথি মারার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগটি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম আলী ওরফে বাবুর ছেলে রাহাগুলজামান পরাগের (২৭) বিরুদ্ধে। গতকাল সোমবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিনা খাতুনের কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত পরাগ দিওড় ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন। আহত কনস্টেবল নুরুজ্জামান সরকার বিরামপুর থানায় কর্মরত। তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন। রাত ১২টার দিকে থানার এক উপপরিদর্শক বাদী হয়ে রাহাগুলজামান পরাগ ও আল আমিন (২৫) নামের দুইজনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। আল আমিন পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম সহকারী।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, সোমবার সকাল ১১টায় ইউএনও কাকে উপজেলার অর্পিত পুকুরের ইজারা সংক্রান্ত আবেদনপত্র জমা নেওয়া হচ্ছিল। নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতে সেখানে পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বেলা পৌনে দুইটার দিকে পরাগ, আল আমিনসহ কয়েকজন ইউএনওর কক্ষের সামনে অশান্তি তৈরি করেন এবং আবেদন জমা দেওয়ার কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। পরিস্থিতির ভিডিও ধারণ করা কনস্টেবল নুরুজ্জামানকে তাঁরা বাধা দেন। পরে বলপ্রয়োগ করে কক্ষে ঢোকার চেষ্টার সময় পুলিশ বাধা দিলে তাদের উদ্দেশে অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ ও ঠেলাঠেলি শুরু হয়। এক পর্যায়ে কনস্টেবল নুরুজ্জামানকে লাতি মারা হয়। এরপর অভিযুক্তরা কক্ষে প্রবেশ করে ইউএনওর সামনে পুলিশের ফোনের ভিডিওগুলো মুছে ফেলতে বাধ্য করে বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে।
বিকেল ৪টা থেকে ৬টা পর্যন্ত ঘটনার সমাধান খুঁজতে ইউএনওর দাপ্তরিক কক্ষে বিএনপির কয়েকজন নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক চলে। এতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজিয়া নওরীন, সহকারী পুলিশ সুপার হারেজ উদ্দিন, উপজেলা বিএনপি সভাপতি মিঞা মো. শফিকুল আলম এবং সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর এলাহী চৌধুরীসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বাইরে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী জড়ো হয়েছিলেন।
ঘটনাটি নিজের চোখের সামনে ঘটেছে কিনা জানতে চাইলে ইউএনও তানজিনা খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি শুনেছেন এবং ভিডিও ফুটেজ দেখেছেন, কিন্তু এটি সংবাদের পর্যায়ে যাওয়ার অবস্থায় যায়নি কারণ তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাটি স্বীকার করেননি। অন্যদিকে, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সানোয়ার হোসেন দাবি করেন যে, গোলমাল থেকে সরিয়ে নেওয়ার সময় পেছন থেকে ওই পুলিশ সদস্যের কোমর ও পায়ে লাথি মারা হয়েছে এবং তার নিজের পায়েও একটি লাথি লেগেছে। তিনি মন্তব্য করেন যে, চারপাশে ক্যামেরা থাকায় অপরাধ লুকানোর কোনো সুযোগ নেই। পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে প্রতিবন্ধকতার অভিযোগে দায়ের করা মামলাটির আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিরামতুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শামীম আল মামুন।



