ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) হেফাজতে মৃত্যুবরণ করা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ কর্মী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদের পরিবারকে পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এই আদেশ দেন।
আইন ও সালিস কেন্দ্রের (আসক) দায়ের করা একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ রুল জারি করা হয়। ওই রিটে ঘটনার বিচারিক তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন আইনজীবী মো. শাহীনুজ্জামান। অপরদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আখতার হোসেন মো. আবদুল ওয়াহাব।
আইনজীবী মো. শাহীনুজ্জামান সংবাদমাধ্যমকে জানান, আদালত রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, কেন মির্জা ইশতিয়াকের পরিবারকে পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না। স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, আইনসচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাপ্রবাহ অনুযায়ী, গত ২০ জুন বিকেলে ফরিদপুরের মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গোন্ধারদিয়া এলাকায় নিজ বাসার সামনে থেকে ইশতিয়াককে আটক করেন ডিবি সদস্যরা। পরে ডিবি হেফাজতে থাকা অবস্থায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরদিন ২১ জুন সকালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
ইশতিয়াক ফরিদপুর আইন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং পাশাপাশি ফরিদপুর চিনিকলে মৌসুমি শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ওই অভিযানে অংশ নেওয়া ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) আহাদুজ্জামান ২১ জুন সকালে বাদী হয়ে ইশতিয়াককে আসামি করে মধুখালী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। মামলায় ইশতিয়াকের কাছ থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধারের দাবি করা হয়। মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০ জুন দিবাগত রাত দুইটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ইশতিয়াক পালানোর চেষ্টা করেন। পরে তাঁকে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি নিজের কাছে গাঁজা থাকার কথা স্বীকার করেন এবং নিজেই প্যান্টের পকেট থেকে পলিথিনে মোড়ানো গাঁজা বের করে দেন।
ইশতিয়াকের মা খাদিজা আক্তার এর আগে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, টাকার বিনিময়ে পুলিশ সদস্যরা তাঁর ছেলেকে ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছিলেন। তিনি এক লাখ টাকা নিয়ে ফরিদপুরে গেলেও জীবিত ছেলের বদলে ছেলের মরদেহ পান। ঘটনার আগে আটকের সময় কী ঘটেছিল, তার ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশিত হয়েছিল, যা পরে প্রথম আলোতে প্রতিবেদন আকারে প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন রিটের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।




