বিরল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পরিবারগুলোর জন্য নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে একটি উদীয়মান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্টার্টআপ ‘নোম’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ওষুধ উন্নয়নের দক্ষতাকে একত্রিত করে রোগীদের জিনগত রোগ নির্ণয়ের ভিত্তিতে ব্যক্তিগতকৃত চিকিৎসা পদ্ধতি তৈরি করার চেষ্টা করছে।
জিনগত ত্রুটির কারণে সৃষ্ট অত্যন্ত বিরল রোগে আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা বিশ্বে অত্যন্ত সীমিত। ফলে প্রচলিত ওষুধ নির্মাতা সংস্থাগুলো সাধারণত এসব রোগের জন্য গবেষণা ও ওষুধ তৈরি করতে আগ্রহী হয় না। এ অবস্থায় রোগীদের পরিবারগুলো প্রায়ই কোনো কার্যকর চিকিৎসার অভাবে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটায়। নোম সেই শূন্যতা পূরণের চেষ্টা করছে।
নোমের পদ্ধতিটি মূলত রোগীর জিনোম সিকোয়েন্সিং করে নির্দিষ্ট জিনগত পরিব্যক্তি শনাক্ত করে। এরপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে সেই পরিব্যক্তির প্রভাব বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য ওষুধের কৌশল নির্ধারণ করা হয়। সংস্থাটি মনে করে, প্রতিটি রোগীর জিনগত গঠন আলাদা, তাই তাদের চিকিৎসাও হওয়া উচিত ব্যক্তিগতকৃত। এ কারণে তারা প্রথাগত ‘এক-আকার-সবের-জন্য’ পদ্ধতির বদলে রোগীর নির্দিষ্ট জিনগত সমস্যার সঙ্গে মানানসই চিকিৎসা তৈরি করার ওপর জোর দিচ্ছে।
নোমের এই উদ্যোগ ইতিমধ্যে বেশ কিছু পরিবারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে যারা দীর্ঘদিন ধরে তাদের সন্তানের বিরল রোগের চিকিৎসা খুঁজছিলেন। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই খাতে এখনও অনেক বাধা রয়েছে। নতুন কোনো চিকিৎসা পদ্ধতি বাজারে আনতে হলে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন পাওয়া একটি দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। তবুও নোমের মতো সংস্থাগুলোর প্রচেষ্টা বিরল রোগীদের জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রযুক্তি ও ওষুধ উন্নয়নের এই সংমিশ্রণে তৈরি পদ্ধতিটি রোগীদের পরিবারের জন্য যেমন আশার খবর, তেমনি চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্যও একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই পদ্ধতি আরও পরিমার্জিত হলে বিরল রোগে আক্রান্ত অসংখ্য মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে।




