জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) লিপিবদ্ধ জন্মতারিখ পরিবর্তনের আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষমতা এখন থেকে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের হাতে ন্যস্ত হলো। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ একটি পরিপত্র জারি করে এই নতুন নির্দেশনা কার্যকর করেছে। পূর্বে জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য অনেক আবেদন উচ্চতর প্রশাসনিক স্তরে পাঠাতে হতো, যা সময়সাপেক্ষ ছিল। কিন্তু নতুন সিদ্ধান্তের ফলে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাই এসব আবেদন সরাসরি বিবেচনা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন।

এই ক্ষমতা প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন—উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসার, সিনিয়র জেলা ও জেলা নির্বাচন অফিসার এবং এনআইডি উইংয়ের সহকারী পরিচালক, উপপরিচালক ও পরিচালক। পরিপত্রে বলা হয়েছে, অনলাইনে যাচাই করা সম্ভব এমন জেএসসি অথবা মাধ্যমিক ও সমমান শিক্ষার সনদভিত্তিক জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদনকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এই শ্রেণির আবেদনগুলো সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্মকর্তা নিজের এখতিয়ারে অনুমোদন অথবা বাতিল করতে পারবেন। এতে নাগরিক সেবার গতি বৃদ্ধি পাবে এবং অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যদিও শিক্ষাগত সনদ মূল ভিত্তি, তবু আবেদন যাচাইয়ের ক্ষেত্রে অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র বা দলিলপত্র সংগ্রহ ও পরীক্ষা করার জন্য বিদ্যমান মানসম্মত কার্যপ্রণালী (এসওপি) মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, সনদ যাচাইয়ের পাশাপাশি আবেদনকারীর পরিচয় ও বয়স সম্পর্কিত অতিরিক্ত নথির ঘাটতি পূরণে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। পাশাপাশি, ইলেকট্রনিক মাধ্যমে কোনো আবেদন অনুমোদিত বা প্রত্যাখ্যাত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে কম্পিউটারাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (সিএমএস) একটি নোট অবশ্যই সংযোজন করতে হবে। এই ডিজিটাল নথিভুক্তকরণ ভবিষ্যতে যেকোনো বিতর্ক বা জটিলতা নিরসনে সহায়ক হবে।

কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও গুণগত মান রক্ষার জন্য মনিটরিংয়ের একটি পদ্ধতিও নির্ধারণ করা হয়েছে। আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা তাঁদের অধীনস্থ কর্মকর্তাদের সম্পাদিত কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবেন। দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে প্রতি মাসে প্রত্যেক আবেদন নিষ্পত্তিকারী কর্মকর্তার কমপক্ষে তিনটি আবেদন সঠিকভাবে মীমাংসা করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। এই যাচাইয়ের ফলাফল নির্ধারিত ছকে প্রতিবেদন প্রস্তুত করে পরিচালকের (অপারেশনস) অভ্যন্তরীণ অ্যাকাউন্টে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে গৃহীত সিদ্ধান্তের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত হবে।

তবে সব আবেদন এই নতুন ক্ষমতার আওতায় পড়বে না। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদের ভিত্তিতে জমা পড়া জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন এবং জন্মতারিখের পাশাপাশি নিজের নাম, পিতার নাম ও মাতার নামের সম্পূর্ণ পরিবর্তনসংক্রান্ত আবেদন এখনো মহাপরিচালক পর্যায়ে নিষ্পত্তিযোগ্য থাকবে। এ ছাড়া একটি বিশেষ শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে—জন্মতারিখ, নিজের নাম এবং পিতা-মাতার নামের সম্পূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একই ক্ষেত্রে দ্বিতীয়বার কোনো সংশোধনের অনুমতি দেওয়া হবে না। এই সীমাবদ্ধতা তথ্যের স্থিতিশীলতা ও বারবার পরিবর্তনের প্রবণতা রোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

পরিপত্র জারির পর সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে এনআইডি সেবায় নতুন মাত্রা যোগ হলো এবং নাগরিকদের জন্য জন্মতারিখ সংশোধনের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুততর হবে বলে প্রত্যাশা করা যাচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও উচ্চতর পর্যায়ের কাজের চাপ হ্রাস—উভয় দিক থেকেই এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।