৪৭তম বিসিএস পরীক্ষায় পুলিশ ক্যাডারে মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী বাচ্চু রহমান। তাঁর এই সাফল্য নিয়ে বিস্তারিত সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) শিক্ষা ক্যাডারেও (মার্কেটিং) তিনি প্রথম হয়েছিলেন।
প্রশ্ন করা হলে বাচ্চু রহমান জানান, পুলিশ ক্যাডারই তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই পুলিশে কাজ করার ইচ্ছা তীব্র হতে থাকে। তিনি বলেন, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও আইনশৃঙ্খলা বিধানে কাজ করতে পারা সৌভাগ্যের বিষয়। যদিও শিক্ষা ক্যাডারে কাজ করাও সৌভাগ্যের, কিন্তু পুলিশ ক্যাডারে না এলে আনন্দের সঙ্গেই শিক্ষা ক্যাডারে কাজ করতেন। তবে এএসপি হওয়া তাঁর স্বপ্ন ছিল বলেও জানান তিনি।
বর্তমানে তিনি কোনো চাকরি করছেন না। প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বাচ্চু রহমান বলেন, তাঁর কৌশল হলো বেশি কৌশলী না হওয়া। বেশি শর্টকাট না পড়ে প্রত্যেকটা বিষয় বুঝে বুঝে পড়া এবং একটি টপিক বা অধ্যায় একটানা কয়েক দিন ধরে পড়া। বাংলাদেশ বিষয়াবলির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট ঘেঁটে তথ্য বের করা, বিবিএস থেকে লেবার ফোর্স সার্ভে, আদমশুমারি, অর্থনৈতিক সমীক্ষা ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে নানা রিপোর্ট খুঁজে বের করার কথা উল্লেখ করেন তিনি। যেমন শিক্ষা পরিসংখ্যান রিপোর্ট, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের তালিকা, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার চিত্র ইত্যাদি। এ ছাড়া প্রচুর পত্রিকা পড়তেন এবং সেখান থেকে নোট নিতেন। বিজ্ঞানের জন্য বিজ্ঞান পাইসি ও খান একাডেমির ভিডিও তাকে খুব সাহায্য করেছে। সারা দিন পড়া শেষে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কী কী পড়েছেন তার একটি রিক্যাপ করতেন। ইংরেজির জন্য বেশি করে দ্য ডেইলি স্টার পড়তেন। সব মিলিয়ে অনুসন্ধানী পড়াশোনাকে তিনি নিজের অন্যতম শক্তি বলে মনে করেন।
খারাপ সময়ে নিজেকে কীভাবে অনুপ্রাণিত করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২০২৩ সালে স্নাতক শেষ করার পর টানা দুই বছর বেকার ছিলেন, তখন সময়টা খারাপ গিয়েছিল। কিন্তু বন্ধুবান্ধব ও রুমের ছোট ভাইদের অনুপ্রেরণায় আত্মবিশ্বাস ছিল যে তাঁর প্রাপ্য একদিন না একদিন পাবেন ইনশাআল্লাহ। এ ছাড়া তাঁর পরিবার, বিশেষ করে ভাই ও বাবা সব সময় তাকে সাপোর্ট করেছেন।
কখনো কি মনে হয়েছে যে তাঁকে দিয়ে হবে না—এমন প্রশ্নের জবাবে বাচ্চু রহমান বলেন, পড়াশোনায় এত বেশি মেতে ছিলেন যে ওসব মাথায় আসেনি। ভীষণ আত্মবিশ্বাস ছিল যে তিনি সফল হবেন। এমনকি বন্ধুবান্ধবকেও বলতেন, পরিশ্রম করলে ফল অনিবার্য। তাই নিজের ওপর কখনো বিশ্বাস হারাননি।
তাঁর স্কুল-কলেজ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাচ্চু রহমান জানান, তাঁর স্কুল যশোরের কানাইডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কলেজও যশোরের পাঁজিয়া মহাবিদ্যালয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স করেছেন। শৈশবে তিনি অতটা মেধাবী ছিলেন না এবং বড় কিছু হওয়ার স্বপ্ন দেখার দুঃসাহসও ছিল না। তবে পুলিশ বা সেনাবাহিনীর চাকরি করার একটা সুপ্ত ইচ্ছা মনে মনে ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার শুরুর দিক থেকেই এএসপি হওয়ার স্বপ্ন দেখা শুরু করেন এবং সেখান থেকে তাঁর বিসিএস যাত্রা শুরু হয়।
পুলিশের চাকরি চ্যালেঞ্জিং—এ বিষয়ে কিছুটা টেনশন নাকি রোমাঞ্চ বেশি অনুভব করছেন—জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুলিশের চাকরিটাই এখন তাঁর স্বপ্নজগতের পুরোটা দখল করে আছে। পুলিশের দায়িত্ব জটিল ও চ্যালেঞ্জিং জেনেই তিনি এটি বেছে নিয়েছেন। কারণ, এই পেশায় মানুষের জন্য যতটা কাজ করা সম্ভব, অন্য পেশায় হয়তো ততটা সম্ভব নয়। তাঁর মাধ্যমে যদি আইনশৃঙ্খলার বিন্দু পরিমাণ উন্নতি হয়, নিজেকে ধন্য মনে করবেন। মানুষের জন্য কতটা কাজ করতে পারবেন তা নিয়ে কিছুটা উদ্বিগ্ন আছেন, তবে পেশায় যোগদানের ব্যাপারে তিনি ভীষণ উত্তেজিত। সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন, যেন দেশের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারেন।




