দেশের স্বর্ণের বাজারে তিন দিন আগের বৃদ্ধির ধাক্কা সামলে আবারও দরপতন ঘটল। শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হওয়া নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, প্রতি ভরি সোনার দাম ২,২১৬ টাকা কমেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মূল্য সমন্বয়ের কারণ ব্যাখ্যা করে সংগঠনটি জানায়, স্থানীয় বাজারে খাঁটি (তেজাবি) সোনার দাম নিম্নমুখী হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ঠিক আগে, গত মঙ্গলবার সোনার ভরি প্রতি দাম ঠিক একই পরিমাণে— ২,২১৬ টাকা বেড়েছিল।

তাজা দরের ভিত্তিতে, অলঙ্কার তৈরির সবচেয়ে জনপ্রিয় ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির (১১.৬৬৪ গ্রাম) মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা। এছাড়াও, ২১ ক্যারেটের মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকায়, ১৮ ক্যারেটের দর ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকায় বিক্রি হবে।

মূল্য হ্রাসের আগে বাজারে ২২ ক্যারেটের সোনা বিক্রি হচ্ছিল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকায়। ফলে শুধুমাত্র এই ক্যারেটেই কমেছে ২,২১৬ টাকা। একইভাবে, ২১ ক্যারেটে ২,১০০ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ১,৭৫০ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ১,৪৫৮ টাকা হ্রাস পেয়েছে।

উল্লেখযোগ্য যে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে স্বর্ণালংকারের উপর কর-কাঠামোয় বদল আনা হয়েছে। আগে মোট ক্রয়মূল্যের ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপিত হতো, যা পরিবর্তন করে এখন ভরি প্রতি নির্দিষ্ট ২,৫০০ টাকা ভ্যাট ধার্য করা হয়েছে। এই সম্পৃক্ত ভ্যাট ইতোমধ্যে সোনার মূল্যের সাথে অন্তর্ভুক্ত থাকায়, ক্রেতাদের থেকে জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলো আর আলাদা করে কোনো কর আদায় করবে না।

এদিকে, বৈশ্বিক বাজারের চিত্রও ছিল মন্দমুখী। আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটের সূত্র ইঙ্গিত করছে, এশীয় সময় দুপুর ১২টায় প্রতি আউন্স সোনা ৪,০৭৪ ডলারে লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় ০.৬৬ শতাংশ কম। চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি দেশের ইতিহাসে সোনার দাম সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছে রেকর্ড গড়ে। সেদিন ভরিপ্রতি দর একলাফে ১৬,২১৩ টাকা বেড়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় উঠেছিল।

অন্যদিকে, রৌপ্যের বাজারে কোনো পরিবর্তন আসেনি। শুক্রবার ২২ ক্যারেট রুপার ভরির দাম অপরিবর্তিত রেখে ৪,৬০৭ টাকা এবং ২১ ক্যারেটের দাম ৪,৩৭৪ টাকা ধার্য করা হয়েছে।