রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যস্ফীতি ক্রেতাদের জন্য নতুন করে আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের কাঁচাবাজার ও কারওয়ান বাজার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ সবজির কেজি ৭০ টাকার নিচে নেই। খচুরা বাজারে এক হালি ডিম কিনতে গুনতে হচ্ছে ৫০ টাকা। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র কাঁচা মরিচের বাজারে, যেখানে প্রতি কেজি ৩৪০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিভিন্ন সবজির মূল্য তালিকা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বরবটি ও বেগুনের দাম ছিল সর্বোচ্চ, কেজিপ্রতি ১১০ থেকে ১২০ টাকা। করলার কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকায়, আর বর্ষার মৌসুমি সবজি কাঁকরোলও বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকায়। একইভাবে, ঢ্যাঁড়স, চিচিঙ্গা, ধুন্দুল, কচুমুখী ও পটোলের দাম ছিল ৭০ টাকা করে। শসার কেজি গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১০০ টাকায় এবং একটি মাঝারি আকারের চালকুমড়ার জন্য ক্রেতাদের গুনতে হয়েছে ৭০ টাকা। কেবল কাঁচা পেঁপের দামেই কিছুটা স্বস্তি ছিল, যা বাজারভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে মিলেছে।

শাকের বাজারে দামও ঊর্ধ্বগামী। লাউশাকের প্রতি আঁটি ৪০ টাকা, ডাঁটা ও পুঁইশাক ৩০ টাকা, এবং লালশাক ও মুলাশাক ২০ টাকা করে বিক্রি হতে দেখা গিয়েছে। সবচেয়ে সস্তায় মিলেছে কলমিশাক, যার আঁটি ছিল ১০ টাকা। এছাড়া আলু ২৫ টাকা কেজি ও কাঁচকলা প্রতি হালি ৩০ টাকা দরে কিক্রি হয়েছে।

ডিমের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী গতিধারা স্পষ্ট। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বিবৃতি, গতকাল রাজধানীতে প্রতি হালি ডিমের খুচরা দাম ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। ঠিক এক বছর আগে এই দাম ছিল ৩৮ থেকে ৪৫ টাকা, অর্থাৎ বছরের হিসাবে ডিমের মূল্য ১৪ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। পাড়া-মহল্লার মুদিদোকানে একটি ডজন কিনতে খরচ হচ্ছে ১৪৫ টাকা।

মসলা শ্রেণির পণ্যে সবচে অশান্ত পরিস্থিতি কাঁচা মরিচের। মিরপুর ও কারওয়ান বাজারে মানভেদে এটি ৩৪০ থেকে ৪০০ টাকা কেজিতে হাতছাড়া হয়েছে। অথচ টিসিবির তথ্য বলছে, গত সপ্তেও দাম ছিল ১৫০ থেকে ২২০ টাকার মধ্যে। হিসাবটি দাঁড়ায়, মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে পণ্যটির দাম দ্বিগুণ বা প্রায় ১০০ ভাগ বেড়েছে। অথচ এক বছর আগে একই সময়ে কাঁচা মরিচের সর্বোচ্চ দাম ছিল ১২০ টাকা কেজি।

এছাড়া পেঁয়াজের কেজি সাধারণত ৬০ টাকায় মিললেও, মিরপুরের কয়েকটি দোকানে বাছাই করা পেঁয়াজ ৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গিয়েছে। মুরগির বাজারে বড় পলটন না ঘটলেও সোনালি মুরগি ৩২০-৩৪০ টাকা ও ব্রয়লার মুরগি ১৮০-১৯০ টাকা কেজি দরে টিকে আছে। দেশি মসুর ডালের কেজি ১৫০ টাকা।

চালের দামেও স্বস্তি নেই। বিআর-২৮ চাল ৬০ টাকা, মিনিকেট ৭২ টাকা ও নাজিরশাইল ৮৮ টাকা কেজি দরে খুচরায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বস্তায় কিনলে কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা কম পড়ে। তাছাড়া, টিসিবির তথ্য অনুযায়ী সপ্তাহের ব্যবধানে মোড়কজাত আটা ও ময়দার কেজি পাঁচ টাকা এবং খোলা ময়দার কেজি দুই টাকা বেড়েছে। শসা ও বেগুনের দামও ১৫-২০ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে।