যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি আবেদন খারিজ করে দিয়েছে, যার ফলে লেখিকা ই. জিন ক্যারলের মামলায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দেওয়া রায় চূড়ান্ত হলো। এই রায়ের মাধ্যমে ক্যারলকে ৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হচ্ছেন ট্রাম্প। সোমবার এক আদেশের অংশ হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের পুনর্বিবেচনার অনুরোধ নাকচ করে দেয়, তবে এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আদালত কোনো মন্তব্য করেনি এবং কোন বিচারপতি মামলাটি গ্রহণ করতে চেয়েছিলেন তাও জানানো হয়নি।
এর আগে জুন মাসে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের প্রথম আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিল, ফলে তার বিরুদ্ধে ৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানার রায় কার্যকর থাকে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট পদে ফেরার পর ট্রাম্প আদালতকে সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য অনুরোধ জানান, যা অত্যন্ত বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হয়। সোমবারের এই আদেশের ফলে মামলাটি নিষ্পত্তি হয়ে গেল এবং ট্রাম্পের কাছে আর কোনো আপিলের সুযোগ রইল না। ফলে ক্যারলকে দেওয়া জরিমানার অর্থ চূড়ান্তভাবে বহাল থাকল।
গত জুলাই মাসে সুপ্রিম কোর্ট প্রথমবার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রায় দেওয়ার পর আদালত-নিয়ন্ত্রিত একটি অ্যাকাউন্টে ক্যারল ৫.৬ মিলিয়ন ডলার পেয়েছিলেন, যার মধ্যে ৫ মিলিয়ন ডলারের সাথে সুদও যুক্ত ছিল। তবে এখন সেই অর্থের ওপর থেকে সকল বিধিনিষেধ উঠে যাবে এবং ক্যারল সেই টাকা নিজের ইচ্ছামতো খরচ করতে পারবেন। মামলার কার্যক্রমের কারণে এতদিন অর্থটি আটকে ছিল।
ক্যারলের প্রতিনিধিরা বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি। অন্যদিকে ট্রাম্পের আইনী দল সোমবার এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, “আমেরিকান জনগণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং তারা সকল ‘শিকারের শিকার’ অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানাচ্ছে।” তারা ক্যারলের মামলাগুলোকে ‘প্রতারণা’ আখ্যা দিয়ে বলেছে, “উদারপন্থী আইনী হয়রানির বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট জয়ী হতে থাকবেন।”
৫ মিলিয়ন ডলারের এই জরিমানা ছিল দুটি পৃথক মামলার মধ্যে একটি। অন্যটিতে ৮৩.৩ মিলিয়ন ডলারের জরিমানা ধার্য করা হয়েছে, যা এখনও আপিলের পর্যায়ে রয়েছে। আপিল আদালত ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রায় বহাল রাখার পর তিনি সেই মামলাটিও সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছেন, তবে বিচারপতিরা এ বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেননি।




