চলচ্চিত্র প্রেমীদের জন্য আজ শুক্রবার স্টার সিনেপ্লেক্সে ভিন্নধর্মী দুটি হলিউড ছবির আয়োজন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুক্তির দিনেই বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য নিয়ে আসা হয়েছে ভৌতিক চলচ্চিত্র ‘ইনসিডিয়াস: আউট অব দ্য ফারদার’ এবং পারিবারিক ও শিশু-কিশোর উপযোগী অ্যানিমেশন ‘পাও প্যাট্রোল: দ্য ডাইনো মুভি’। দুটি ছবিই জনপ্রিয় সিনেমার ফ্র্যাঞ্চাইজির পরবর্তী অংশ।

ভৌতিক ধারার ‘ইনসিডিয়াস’ সিরিজের ষষ্ঠ কিস্তি ‘ইনসিডিয়াস: আউট অব দ্য ফারদার’ পরিচালিত করেছেন জ্যাকব চেজ। ২০২৩ সালের ‘ইনসিডিয়াস: দ্য রেড ডোর’-এর পর এই ছবির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন দর্শকরা। ছবিতে অভিনয় করেছেন অ্যামেলিয়া ইভ, মেইজি রিচার্ডসন-সেলার্স এবং ব্র্যান্ডন পেরিয়া; পাশাপাশি আগের সিনেমার পরিচিত চরিত্র হিসেবে ফিরেছেন লিন শে। ছবির কাহিনী আবর্তিত হয়েছে জেমা নামের এক তরুণী মাকে কেন্দ্র করে। নিজের শৈশবের বাড়িতে মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতে গিয়ে জেমা আবিষ্কার করেন তাঁর এক রহস্যময় ক্ষমতা। তিনি ‘দ্য ফারদার’ নামক এক অতিপ্রাকৃত জগতে প্রবেশ করতে পারেন, যেখানে মৃত আত্মা ও অশুভ শক্তির বাস। তবে জেমার বিশেষত্ব হলো, তিনি সেই জগতের সত্তাদের বাস্তব পৃথিবীতে নিয়ে আসতে সক্ষম। এই অদ্ভুত ক্ষমতার কথা অশুভ শক্তির নজরে আসতেই শুরু হয় বিপদ। ধীরে ধীরে বাস্তব জগত এবং অতিপ্রাকৃত জগতের মধ্যবর্তী দেয়াল ভেঙে পড়তে থাকে, যা শেষ পর্যন্ত জেমা ও তাঁর পরিবারের জন্য চরম হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আগের ছবিগুলোতে চরিত্ররা অতিপ্রাকৃত জগতে গিয়ে বিপদে পড়ত, তবে এবার সেই অশুভ জগত নিজেই বাস্তব পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপট দেখানো হয়েছে, ফলে ভয়ের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে।

অন্যদিকে, শিশুদের জন্য রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা নিয়ে আসছে ‘পাও প্যাট্রোল: দ্য ডাইনো মুভি’। এটি জনপ্রিয় অ্যানিমেশন ফ্র্যাঞ্চাইজির তৃতীয় সিনেমা এবং ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পাও প্যাট্রোল: দ্য মাইটি মুভি’-র সিক্যুয়েল। ক্যাল ব্রুঙ্কারের পরিচালনায় এই ছবির বিভিন্ন চরিত্রে কণ্ঠ দিয়েছেন স্নুপ ডগ, প্যারিস হিলটন, জেনিফার হাডসন, টেরি ক্রুস, ম্যাকেনা গ্রেস ও কার্টার ইয়ংয়ের মতো তারকা। গল্পের শুরু হয় যখন পাও প্যাট্রোল দলের জাহাজ এক শক্তিশালী ঝড়ের কবলে পড়ে এবং পথ হারিয়ে একটি রহস্যময় দ্বীপে গিয়ে পৌঁছায়। সেখানে তারা দেখতে পায় জীবন্ত ডাইনোসরদের এক বিস্ময়কর জগত। এই দ্বীপে তাদের সাহায্য করে জবী নামের একটি কুকুর, যে সেখানকার পরিবেশ ও ডাইনোসরদের বিষয়ে অভিজ্ঞ। তবে ডাইনোসরই একমাত্র সমস্যা নয়, দলের পুরনো শত্রু মেয়র হামডিঙ্গার দ্বীপের খনিজ সম্পদ দখলের চেষ্টা করেন। তাঁর এই খননকাজের ফলে একটি সুপ্ত আগ্নেয়গিরি জেগে ওঠে, যা দ্বীপের জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনে। একদিকে ডাইনোসর ও অন্যান্য প্রাণীদের রক্ষা করা এবং অন্যদিকে আগ্নেয়গিরির ধ্বংসলীলা থামিয়ে হামডিঙ্গারের পরিকল্পনা ব্যর্থ করাই হয় পাও প্যাট্রোল দলের মূল লক্ষ্য। সাহসিকতা, বুদ্ধিমত্তা এবং বন্ধুত্বের গল্পের সাথে ডাইনোসর ও আগ্নেয়গিরির রোমাঞ্চ এই চলচ্চিত্রটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।