উত্তর-পূর্ব অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের ফরেস্ট বিচে ভেসে আসা রহস্যময় ধাতব গোলকের উৎস খুঁজতে তদন্ত শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সি (এএসএ)। টাউনসভিলের উত্তরে অবস্থিত এই সৈকতে শনিবার (৪ জুলাই) মোট ছয়টি বড় রূপালি গোলক পাওয়া যায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সন্দেহ করছে এগুলো মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ হতে পারে। বিষয়টি নিশ্চিত করতে এএসএ এখন উৎস শনাক্তের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ ব্যাপারে সংস্থাটির মন্তব্য চেয়েছে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থলে প্রতিরক্ষামূলক স্যুট পরিহিত কর্মীদের বিপজ্জনক উপাদান ধারণকারী বিশেষ পাত্রে গোলকগুলো রাখতে দেখা গেছে বলে জানা গেছে। পুলিশের তত্ত্বাবধানে এই কাজ সম্পন্ন হয়। কুইন্সল্যান্ডের দমকল বিভাগ রোববার (৫ জুলাই) এক বিবৃতিতে জানায়, এলাকাটিতে ৫০ মিটার ব্যাসার্ধের একটি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। বিভাগটি সাধারণ মানুষকে সন্দেহজনক বস্তু স্পর্শ না করার এবং কাছাকাছি এলাকা থেকে দূরে সরে জরুরি সেবায় ফোন করার আহ্বান জানিয়েছে।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকের ধারণা, গোলকগুলো মহাকাশযানের জ্বালানি ট্যাংক হতে পারে, যাতে অত্যন্ত দাহ্য বা প্রতিক্রিয়াশীল পদার্থের অবশিষ্টাংশ থাকতে পারে। তবে এগুলো কোন যান বা কার মালিকানাধীন তা এখনও স্পষ্ট নয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জনগণকে এগুলোর কাছাকাছি না যাওয়ার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করেছে।
ফরেস্ট বিচের একটি স্থানীয় দোকান ‘ফরেস্ট বিচ টেকঅওয়ে’-র মালিক লিসা স্কোবি জানিয়েছেন, এলাকাবাসী এই ঘটনার উৎস জানতে আগ্রহী। তিনি সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এবিসিকে বলেন, “এখানে সাধারণত খুব শান্ত পরিবেশ থাকে, কিছুই ঘটে না। তাই এত বেশি বাড়তি কর্মকাণ্ড... সেটি অবশ্যই একটু উত্তেজনা তৈরি করেছে।”
তবে অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে এমন রহস্যময় বস্তু পাওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। ২০২৩ সালে ভারত নিশ্চিত করেছিল যে পার্থের কাছে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার একটি সৈকতে ভেসে আসা বিশাল ধাতব গম্বুজটি তাদের একটি রকেটের অংশ ছিল। ভারতের মহাকাশ সংস্থার মুখপাত্র তখন বিবিসিকে জানিয়েছিলেন, সেটি তাদের পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকলের (পিএসএলভি) একটি অংশ ছিল।
এর আগে ২০১১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার নামিবিয়ার প্রত্যন্ত তৃণভূমিতেও এই সপ্তাহান্তে পাওয়া গোলকগুলোর মতো একটি গোলাকার বস্তু উদ্ধার করা হয়েছিল। তখন বিশেষজ্ঞরা মনে করেছিলেন, এটি সম্ভবত একটি মানববিহীন রকেটের জ্বালানি ট্যাংক বা ব্লাডার ট্যাংক ছিল যাতে হাইড্রাজিন নামক একটি অত্যন্ত উদ্বায়ী জ্বালানি ছিল। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় পাওয়া গোলকগুলোর সঠিক প্রকৃতি ও উৎস উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।




